গাজার মধ্যাঞ্চলে চারটি ট্রাক উল্টে অন্তত ২০ জন নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হামাস-চালিত বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেইর আল-বালাহর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি রাস্তায় ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো পৌঁছালে সেগুলো ঘিরে ভিড় করে অসংখ্য মানুষ। স্থানীয় সাংবাদিকরা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে চালকেরা নিয়ন্ত্রণ হারান এবং চারটি ট্রাক উল্টে যায়।
বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেছেন, এই এলাকাটি ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং রাস্তা ছিল ভাঙাচোরা ও ঝুঁকিপূর্ণ।
গাজায় বর্তমানে কার্যরত বেসরকারি পরিবহন সমিতির বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার ২৬টি বাণিজ্যিক ট্রাক প্রবেশ করেছিল গাজায়। এর মধ্যে ছয়টি লুটপাটের শিকার হয় এবং চারটি উল্টে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
ইসরায়েল সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী ধীরে ধীরে বেসরকারি খাতের মাধ্যমে ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে। যাতে করে জাতিসংঘের উপর নির্ভরতা কমিয়ে সাহায্যের পরিমাণ বাড়ানো যায়। অনুমোদিত পণ্যের মধ্যে রয়েছে শিশুখাদ্য, ফলমূল, সবজি, স্বাস্থ্যসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য।
হামাসের মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, বহুদিন ধরে মানুষেরা রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অপেক্ষায় ছিল। ফলে প্রায়ই মানুষ ট্রাকগুলোর দিকে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে।
বিভিন্ন সময়েই গাজায় ত্রাণবাহী ট্রাক লক্ষ্য করে হামলা ও লুটের ঘটনা ঘটছে। এটিকে অনেকে ক্ষুধার উপদ্রব হিসেবে বর্ণনা করছেন।
বুধবার আরেকটি ঘটনায় জর্ডান সরকার জানিয়েছে, ইসরায়েলি বসতির বাসিন্দারা গাম্বাট গাজাগামী ত্রাণ বহর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ৩০টি ট্রাকের বহর জর্ডান সীমান্ত অতিক্রম করে জিকিম ক্রসিংয়ের দিকে যাওয়ার পথে ইসরায়েলি বসতির লোকজন রাস্তা অবরোধ করে ও ট্রাকগুলোর কাচ ভেঙে ফেলে।
জর্ডানের সরকারের মুখপাত্র মোহাম্মদ আল-মোমানি বলেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে ইসরায়েলের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এটি গত সপ্তাহের পর দ্বিতীয় হামলা।
এদিকে বুধবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অপুষ্টিজনিত কারণে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই কারণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১৯৩ জনে। এর মধ্যে ৯৬ জন শিশু।
১০০টির বেশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং ত্রাণ সংগঠন গাজায় গণঅনাহারের আশঙ্কা প্রকাশ করে ইসরায়েলকে মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করার জন্য অভিযুক্ত করেছে।
তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, গাজায় অনাহার নেই এবং ইসরায়েল ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইসরায়েল সাম্প্রতিক সপ্তাহে গাজায় মানবিক করিডোর খোলার কথা জানায় এবং তিনটি এলাকায় সাময়িক যুদ্ধবিরতিরও ঘোষণা দেয়।
জাতিসংঘ বলছে, গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থায় বসবাস করছে। অনেককে একাধিকবার ঘর ছাড়তে হয়েছে।
গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল আক্রমণে ১ হাজার ২০০ জন নিহত ও ২৫১ জনকে গাজায় জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে। হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন অন্তত ৬১ হাজার ২০ জন ফিলিস্তিনি।









