গাজা সিটিতে ‘প্রাথমিক হামলা’ শুরু করেছে ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৯ আগস্ট ২০২৫, ২১:৩৪আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৫, ২২:২৯

গাজা সিটিকে যুদ্ধক্ষেত্র ঘোষণা করে সেখানে ‘প্রাথমিক হামলা’ শুরু করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) এক বিবৃতিতে দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, গাজার সবচেয়ে বড় শহরে মানবিক সহায়তার জন্য প্রতিদিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতিও আর কার্যকর থাকবে না। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আভিচাই আদ্রেয়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, আমরা অপেক্ষা করছি না। আমরা গাজা সিটিতে অভিযানের প্রাথমিক ধাপ শুরু করেছি।

তিনি আরও বলেছেন, সেনারা শহরের উপকণ্ঠে তীব্র শক্তি নিয়ে অভিযান চালাচ্ছে।

জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ সতর্ক করেছে, গাজা সিটির পুষ্টি কেন্দ্রে ক্ষুধার্ত শিশুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ইউনিসেফের মুখপাত্র টেস ইংগ্রাম বলেন, মাঠপর্যায়ে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, দুর্ভিক্ষ গাজা সিটিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। অভিভাবকরা হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন, কারণ তাদের কোনও বিকল্প নেই।

স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, গুরুতর অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের চিকিৎসায় বিশেষ শক্তিবর্ধক খাবার ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু সরবরাহ চাহিদার তুলনায় খুবই কম।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় অনাহার ও অপুষ্টিতে মারা গেছেন অন্তত পাঁচজন, তাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ কারণে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২২ জনে। এর মধ্যে শিশুর সংখ্যা ১২১।

৬ আগস্ট থেকে গাজা সিটিতে টানা বিমান ও স্থল হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা। এতে জেইতুন ও সাবরা এলাকায় এক হাজারের বেশি ভবন ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, এ হামলার ফলে হাজারো বাসিন্দা পশ্চিমাঞ্চলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

শুক্রবার গাজাজুড়ে অন্তত ৪১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ছয় জন সাহায্যপ্রার্থীও রয়েছেন। স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, নেজারিম করিডোরে খাদ্য সাহায্যের খোঁজে আসা তিন জনকে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরায়েলি সেনারা।

একই দিন খান ইউনিসের পশ্চিমে আল-মাওয়াসি এলাকায় তথাকথিত ‘নিরাপদ অঞ্চলে’ ইসরায়েলি বিমান হামলায় পাঁচ জন নিহত ও বহু মানুষ আহত হন। তারা তাঁবুতে ঘুমিয়ে ছিলেন। এক আহতের স্বজন বলেন, আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম, তখনই হামলা হয়। অ্যাম্বুলেন্স আসার আগেই আমরা নিজেরাই আহতদের হাসপাতালে নিয়ে গেছি। দয়া করে যুদ্ধ থামান, শিশুদের প্রতি দয়া করুন।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের হিসেবে, প্রায় দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৬২ হাজার ৬০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। আহতের সংখ্যা অন্তত এক লাখ ৫৭ হাজার ৬০০।

/এএ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
রাস্তায় তোশক আর মুখে মুখ, দিল্লির আগুনে যেভাবে ‘হিরো’ হলেন স্থানীয়রা
উচ্চ ক্ষমতার কার্বন ফাইবারের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু চীনে
সর্বশেষ খবর
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
পুষ্টিগুণে ভরপুর পাঁচমিশালি সবজি ঘণ্ট
একদিনে হামে আরও ৪ মৃত্যু
একদিনে হামে আরও ৪ মৃত্যু
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী