গাজায় হামাসকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে সোমবার থেকে ব্যাপক হামলার হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, আকাশে উঠবে প্রবল হারিকেন। যা হামাসের জন্য হবে শেষ সতর্ক বার্তা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
কাৎজ এক্সে লিখেছেন, আজ গাজা শহরের আকাশে উঠবে প্রবল হারিকেন, কেঁপে উঠবে সন্ত্রাসী টাওয়ারের ছাদ। হামাসের খুনি ও ধর্ষকদের জন্য এটি শেষ সতর্কবার্তা: জিম্মিদের মুক্তি দাও, অস্ত্র ফেলে দাও। নইলে গাজা ধ্বংস হবে, তোমরা নিশ্চিহ্ন হবে।
হোয়াইট হাউজ সূত্রে রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির প্রথম দিনেই হামাসকে জীবিত ও নিহত ৪৮ জন জিম্মি ফেরত দিতে হবে। এরপর চলবে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একে হামাসের জন্য শেষ সুযোগ বলে সতর্ক করেছেন।
হামাস জানিয়েছে, তারা প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। সংগঠনটির অবস্থান হলো, তারা সব জিম্মি মুক্তি দিতে প্রস্তুত। কিন্তু এর আগে যুদ্ধের অবসান ও গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের ঘোষণা চায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা গেছে, সোমবার গাজা সিটির শেখ রাদওয়ান, জেইতুন ও তুফাহ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী বিমান ও স্থল থেকে হামলা চালায়। পরিত্যক্ত সাঁজোয়া যান উড়িয়ে দেওয়া হয়, ধসে পড়ে একের পর এক বাড়িঘর।
ফিলিস্তিনি সূত্রে বলা হয়েছে, এদিন অন্তত ১২ জন নিহত হন, তাদের মধ্যে সাংবাদিক ওসামা বালুশাও আছেন। গাজা যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫০ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। যা আধুনিক ইতিহাসে সংবাদমাধ্যমকর্মীদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত। ইসরায়েল সব বিদেশি সাংবাদিককে গাজায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৩ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। কেবল গত ২৪ ঘণ্টায় অপুষ্টি ও অনাহারে মারা গেছেন আরও ছয়জন, যাদের মধ্যে দুজন শিশু। এ নিয়ে অনাহারে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ালো অন্তত ৩৯৩ জন।
ইসরায়েল বলছে, গাজায় ক্ষুধা মৃত্যুর অভিযোগ অতিরঞ্জিত। তাদের দাবি, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ভিন্ন। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ একে পরিকল্পিত মানবিক সংকট বলে বর্ণনা করছে।
২০২৩ সালে হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলায় ইসরায়েলের প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ নিহত ও আড়াই শতাধিক মানুষকে জিম্মি করার পর থেকে যুদ্ধ চলছে। কয়েক দফা যুদ্ধবিরতিতে অনেকে মুক্তি পেলেও এখনও জিম্মিদের একাংশকে অংশ ধরে রেখেছে হামাস।
ইসরায়েলের শর্ত হলো, সব জিম্মি মুক্তি ও হামাসের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া যুদ্ধ থামবে না। আর হামাস বলছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া তারা অস্ত্র ছাড়বে না। এ অবস্থায় শান্তি আলোচনার প্রতিটি প্রচেষ্টা এখনও ভেস্তে যাচ্ছে।









