মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সোমবার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে মার্কিন সময় দুপুর ১টায় (জিএমটি ১৮টা) এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। গাজায় স্থবির হয়ে পড়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে গতি আনা এবং লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইরান ইস্যুতে ইসরায়েলের উদ্বেগ নিয়ে তাদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
অক্টোবরে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় ইসরায়েল ও হামাস উভয়েই সম্মতি জানিয়েছিল। এই পরিকল্পনার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণ। প্রথম ধাপে আংশিক সেনা প্রত্যাহার, ত্রাণ বৃদ্ধি এবং বন্দিবিনিময় কার্যকর হলেও দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে এখনও জটিলতা কাটেনি।
নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী দাবি করবেন যে গাজায় থাকা সর্বশেষ ইসরায়েলি জিম্মি রণ গভিলির মরদেহ ফেরত দেওয়ার মাধ্যমেই প্রথম ধাপের কাজ সমাপ্ত করতে হবে। এই মরদেহ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত রাফাহ সীমান্ত পারাপার খুলবে না বলেও জানিয়েছে ইসরায়েল।
উল্লেখ্য, জিম্মি গভিলির পরিবারও নেতানিয়াহুর সঙ্গে এই সফরে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছেন।
তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী চুক ফ্রেইলিচ জানান, আগামী অক্টোবরে ইসরায়েলে নির্বাচন থাকায় নেতানিয়াহু বর্তমানে বেশ চাপে রয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের বছরে নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সঙ্গে কোনও দ্বন্দ্বে জড়াতে চান না। ট্রাম্প দ্রুত চুক্তির দিকে এগোতে চান, তাই নেতানিয়াহুকে কিছু আপস করতে হতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটন চায় ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজায় দ্রুত একটি বোর্ড অব পিস এবং ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের সমন্বয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন গঠিত হোক। এরপর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলিউশন অনুযায়ী আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
তবে হামাস নিরস্ত্রীকরণে অস্বীকৃতি জানানোয় এবং ইসরায়েলি সেনারা গাজার প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ডে অবস্থান করায় শান্তি প্রক্রিয়া থমকে আছে। অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলেও ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৪০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। অন্যদিকে হামাসের হামলায় তিনজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।
গাজার পাশাপাশি লেবানন পরিস্থিতি নিয়েও ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলবেন নেতানিয়াহু। ২০২৪ সালের নভেম্বরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি অনুযায়ী হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের শর্ত থাকলেও গোষ্ঠীটি তা মানছে না বলে অভিযোগ ইসরায়েলের। হিজবুল্লাহর পুনর্গঠন ঠেকাতে লেবাননে প্রায় প্রতিদিন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।
এ ছাড়া ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া নিয়ে গোয়েন্দা তথ্য ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপন করতে পারেন নেতানিয়াহু। যদিও ট্রাম্প এর আগে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তবে সম্প্রতি তিনি তেহরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছেন।









