ইরানে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ জোরালো হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির নির্বাসিত ‘ক্রাউন প্রিন্স’ রেজা পাহলভির সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। এতে স্পষ্ট হয়েছে, সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে কোনো বিরোধী নেতাকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিতে আপাতত অনিচ্ছুক ওয়াশিংটন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাদধ্যম আল জাজিরা এ খবরটি জানিয়েছে।
কনজারভেটিভ মার্কিনীদের মাঝে জনপ্রিয় দ্য হিউ হিউয়িট শো পডকাস্টে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি কোন বিরোধী নেতাকে সমর্থন দিতেই আগ্রহী না, বরং তিনি আগে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে দেখতে চান। ইরানে রেজা পাহলভিকে সমর্থন দেবেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, সবাইকে মাঠে নামতে দেওয়া উচিত, তারপর দেখা যাক কে সামনে আসে। এখনই এমন কিছু করা উপযুক্ত হবে কিনা, তা নিয়ে আমি নিশ্চিত নই।”
ইরানের শেষ শাহের (রাজার) পুত্র রেজা পাহলভি বর্তমানে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত বিরোধী শিবিরের রাজতন্ত্রপন্থি অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ইসরায়েলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়লে তিনি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।
এদিকে ট্রাম্প আবারও ইরানের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “ওদের অবস্থা খুবই খারাপ। আমি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছি, তারা প্রায়ই আন্দোলন দমন করতে নির্বিচারে গুলি চালায়। যদি তারা আবার তা শুরু করে, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তা প্রতিহত করবো।”
বৃহস্পতিবার ইরানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়। পাহলভির দাবি, গত মাসে অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও রিয়ালের দরপতনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলনে লাখ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছে।
চলমান পানি সংকট ও বৈশ্বিকভাবে ইরানের মিত্র পরিসরের সংকুচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে অস্থিরতা আরও গভীর হয়েছে। ২০২৪ সালে ইরানের অন্যতম মিত্র সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়া, ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহ’র দুর্বল হওয়া, আর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক অপহরণের মতো ঘটনাপ্রবাহ তেহরানের অবস্থানকে আরও নড়বড়ে করেছে।
তবে বিদেশি চাপকে গুরুত্ব দিতে নারাজ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “আমরা শত্রুর কাছে নতি স্বীকার করব না। বরং শত্রুদের বাধ্য করবো আমাদের সামনে নতি স্বীকার করতে।”









