ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদ এখন বিক্ষোভকারীদের দখলে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এমন দাবি সংবলিত একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শহরটি থেকে নিরাপত্তা বাহিনী পুরোপুরি সরে গেছে কিনা বা মাশহাদ বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে কিনা, সে বিষয়ে স্বাধীন কোনও সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ খবর জানিয়েছে।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১৩ টেলিভিশনের একটি ভিডিও রিপোস্ট করে ট্রাম্প ক্যাপশনে লিখেছেন, ১০ লাখের বেশি মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এখন বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে, সরকারি বাহিনী শহর ছেড়ে পালিয়েছে।
আফগানিস্তান ও তুর্কমেনিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন প্রায় ৪০ লাখ মানুষের শহর মাশহাদ। এখানে শিয়া সম্প্রদায়ের পবিত্র স্থান ইমাম রেজার মাজার অবস্থিত। ফলে শহরটির নিয়ন্ত্রণ হারানোর খবরটি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। যদিও মাশহাদের পতন নিয়ে ট্রাম্পের এই দাবির সপক্ষে এখনও কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরানে চলমান এই গণবিক্ষোভ নিয়ে ট্রাম্প আগে থেকেই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। আমরা এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ প্রস্তুত (লকড অ্যান্ড লোডেড) আছি।
তবে সম্প্রতি ৮ জানুয়ারি ট্রাম্পের কণ্ঠে কিছুটা ভিন্ন সুর শোনা গেছে। বিক্ষোভে নিহতের ঘটনার পেছনে ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং পদদলিত হওয়ার মতো বিষয়গুলো থাকতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, আমি পরিস্থিতি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি। সেখানে বিশাল ভিড় ছিল। কয়েকটি স্থানে পদদলিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে এবং মানুষ মারা গেছে। এ ঘটনায় আমি কাউকে সরাসরি দায়ী করতে পারছি না।
যদিও পরে তিনি হুমকি কঠোর করে বলেছেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তাহলে দেশটিকে নরক দেখতে হবে।
চলমান এই বিক্ষোভে ঠিক কতজন মানুষ মারা গেছেন বা আহত হয়েছেন, সে সম্পর্কে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বিক্ষোভে ৫৬৮ জন পুলিশ সদস্য এবং ৬৬ জন বাসিজ মিলিশিয়া সদস্য আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) বিক্ষোভের ১২তম দিনে জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৮ জন নিরাপত্তা রক্ষীসহ অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ এবং ২ হাজার ২৭৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। স্থানীয় মুদ্রার ব্যাপক দরপতন এবং অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নামেন। দ্রুতই এই বিক্ষোভ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার গত ডিসেম্বর থেকেই ইন্টারনেট গতি কমিয়ে দেওয়া এবং ব্ল্যাকআউটসহ বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। তখন প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করে বিক্ষোভের ভিডিও ও তথ্য বহির্বিশ্বে পৌঁছাচ্ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ (ফারাজা) ও বাসিজ মিলিশিয়া বাহিনী কাজ করছে, ক্ষেত্রবিশেষে আইআরজিসি-কেও সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে দেখা গেছে।









