ইরানে সাম্প্রতিক দেশব্যাপী বিক্ষোভে জড়িত ‘দাঙ্গাবাজদের’ কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা। বিক্ষোভ দমনে ধরপাকড় ও ডিজিটাল ব্ল্যাকআউটের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই সোমবার এক পোস্টে জানান, বিক্ষোভ-পরবর্তী ঘটনাবলীতে বিচার বিভাগের প্রধান কাজ কেবল শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘অযৌক্তিকভাবে কাউকে ক্ষমা করা হলে তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি হবে।’
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গে এক বৈঠকের পর নেতারা যৌথ বিবৃতিতে জানান, খুনি ও সন্ত্রাসী ফিতনাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় যারা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে, তাদের প্রতি ‘ইসলামি অনুকম্পা’ দেখানো হতে পারে।
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরান থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব মৃত্যুর জন্য বিদেশি শক্তির চররা দায়ী।
ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিক্ষোভের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বন্দিদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন। আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট ফার্স নিউজ জানিয়েছে, এক বড় ব্যবসায়ীর ক্যাফে চেইন ও ফুড ব্র্যান্ডসহ সব সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এমনকি সাবেক ফুটবলার ভুরিয়া গাফুরির ক্যাফেও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ প্রধান আহমাদরেজা রাদান জানিয়েছেন, যারা বিক্ষোভে ‘প্রতারিত’ হয়ে অংশ নিয়েছিল, তাদের আত্মসমর্পণের জন্য তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছে।
শনিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির ৩৭ বছরের শাসনের অবসান ঘটার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইরানের গার্ডিয়ান কাউন্সিল বলেছে, সর্বোচ্চ নেতাকে নিয়ে যেকোনও অবমাননা ইরানের ধর্মপ্রাণ মানুষের ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করার শামিল, যার ফল হবে ভয়াবহ। পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প ইরানে বিশৃঙ্খলা ও হত্যাকাণ্ড ছড়াতে তার সবটুকু প্রভাব কাজে লাগাচ্ছেন।
ইরানে বর্তমানে প্রায় পুরোপুরি ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে। বৈজ্ঞানিক বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট হোসেইন আফশিন জানিয়েছেন, সপ্তাহের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে। এদিকে তথ্য নিয়ন্ত্রণের সরকারি নির্দেশ না মানায় মোবাইল অপারেটর ‘ইরানসেল’-এর প্রধান নির্বাহীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিক্ষোভ নিয়ে খবর প্রকাশের দায়ে ‘হাম-মিহান’ নামক একটি দৈনিক পত্রিকাও সোমবার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।









