অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য নিয়োজিত জাতিসংঘ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউ-এর সদর দফতরে বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুর শুরু করেছে ইসরায়েল। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) শেখ জাররাহ এলাকায় অবস্থিত এই দফতরে ইসরায়েলি বাহিনী তাণ্ডব চালায় বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
ইউএনআরডব্লিউএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী তাদের কর্মীদের ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করেছে এবং জোরপূর্বক সদর দফতর থেকে বের করে দিয়েছে। সংস্থাটির প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনি বলেন, এই হামলার সময় ইসরায়েলি আইনপ্রণেতা ও সরকারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি একে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের পরিচয় মুছে ফেলার একটি পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন।
লাজ্জারিনি সতর্ক করে বলেন, ইউএনআরডব্লিউএর সঙ্গে আজ যা ঘটছে, তা কাল বিশ্বের যেকোনও আন্তর্জাতিক সংস্থা বা কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গে ঘটতে পারে।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা বুলডোজার নিয়ে দফতরে প্রবেশের আগে চারপাশের রাস্তা সিল করে দেয় এবং সেখানে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করে। পরে কম্পাউন্ডের ভেতরে থাকা বিভিন্ন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরই পূর্ব জেরুজালেমের আরেকটি জাতিসংঘ পরিচালিত কারিগরি স্কুলেও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে ইসরায়েলি বাহিনী।
ইসরায়েলের উগ্রপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এই উচ্ছেদ অভিযানে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। এক বিবৃতিতে তিনি একে একটি ‘ঐতিহাসিক দিন’ বলে অভিহিত করেন। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সংস্থাটিকে নিষিদ্ধ করে পাস হওয়া নতুন আইনের অংশ হিসেবেই এই ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
এর আগে গত অক্টোবর মাসে ইসরায়েলি পার্লামেন্টে ইউএনআরডব্লিউএকে নিষিদ্ধ করে আইন পাস হয়। গত মাসে সেই আইন সংশোধন করে জাতিসংঘের এই সংস্থার স্থাপনাগুলোতে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ইউএনআরডব্লিউএ ছাড়াও ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (এমএসএফ) এবং নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের মতো ৩৭টি আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থার লাইসেন্স বাতিল করেছে ইসরায়েল। গাজায় জীবন রক্ষাকারী সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর ওপর এমন নিষেধাজ্ঞায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ইতোমধ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ইসরায়েল যদি এই আইন বাতিল না করে এবং জব্দ করা সম্পদ ফেরত না দেয়, তবে তিনি দেশটিকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) নিয়ে যেতে পারেন। গুতেরেস বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের এমন কর্মকাণ্ডে জাতিসংঘ চুপ থাকতে পারে না।
রামাল্লাহ থেকে আল-জাজিরার প্রতিবেদক নিদা ইব্রাহিম জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনিদের সাহায্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত করতেই মাসজুড়ে এই দমন-পীড়ন চালাচ্ছে ইসরায়েল।








