ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের দিকে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, এমন সম্ভাবনা দেখা দেওয়ার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এই হামলার সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্ত এর ফলাফল কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে তা অনিশ্চিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এ বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একটা সম্ভাব্য দৃশ্যপট এমন হতে পারে যে, মার্কিন বিমান ও নৌ হামলার মাধ্যমে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীকে দুর্বল করার চেষ্টা হতে পারে, তবে সরকার পতন নাও ঘটতে পারে। ইরাক ও লিবিয়ায় অতীত হস্তক্ষেপের অভিজ্ঞতা বলছে, এ ধরনের অভিযান টেকসই গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
আরেকটি সম্ভাবনা হলো, বাড়তি আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও ইরানের বর্তমান সরকার টিকে থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে আঞ্চলিক কার্যক্রম ও অস্ত্র কর্মসূচি কিছুটা কমাতে তাদের বাধ্য করা হতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো, তেহরানের নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরেই বড় ধরনের নীতি পরিবর্তনে আগ্রহ দেখায়নি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান সরকার পতনের ক্ষেত্রে রেভল্যুশনারি গার্ড সংশ্লিষ্ট শক্তিগুলো ক্ষমতার শূন্যতা পূরণ করতে পারে, যা সামরিক শাসনের দিকে দেশটিকে ঠেলে দিতে পারে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলোর অবকাঠামোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে পারে।
এদিকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের ধাক্কার আশঙ্কা রয়েছে। হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও গ্যাস রপ্তানি হয়। ইরান হরমুজ প্রণালীতে নৌ-মাইন বসিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হলো ইরানের ভেতরে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা বা গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়া। এতে মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে এবং আশপাশের দেশগুলোর অবস্থাও আরও খারাপ হয়ে উঠবে। কূটনীতিকরা সতর্ক করে বলছেন, এখন সামান্য ভুল সিদ্ধান্তও বড় যুদ্ধ ডেকে আনতে পারে, যার প্রভাব অনেক দিন ধরে সারা বিশ্বে পড়তে পারে।








