গাজায় এমএসএফের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করছে ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:২৬আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:২৬

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ)-এর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। সংস্থাটি তাদের ফিলিস্তিনি কর্মীদের তালিকা দিতে ব্যর্থ হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে করে চরম সংকটে থাকা গাজাবাসীর জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুযোগ আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

রবিবার ইসরায়েলের মিনিস্ট্রি অব ডায়াস্পোরা অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড কমব্যাটিং অ্যান্টিসেমিটিজম জানায়, তারা গাজা উপত্যকায় এমএসএফের (ফরাসি নাম মেদসাঁ সঁ ফ্রঁতিয়ে) কার্যক্রম বন্ধ করার পদক্ষেপ নিচ্ছে। মন্ত্রণালয়টি বলছে, ওই অঞ্চলে কর্মরত সব মানবিক সংস্থার জন্য স্থানীয় কর্মীদের তালিকা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হলেও এমএসএফ তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

এর আগে গত ডিসেম্বরে ইসরায়েল ঘোষণা করেছিল যে, এমএসএফসহ ৩৭টি ত্রাণ সংস্থাকে গাজায় কাজ করতে দেওয়া হবে না। কর্মীদের বিস্তারিত তথ্য জমা না দেওয়ার অভিযোগে ১ মার্চ থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, যা জাতিসংঘ ও বিভিন্ন এনজিওর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এমএসএফের দুজন কর্মীর সঙ্গে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস ও ইসলামিক জিহাদের সম্পর্ক রয়েছে। তবে দাতব্য সংস্থাটি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইসরায়েল বলছে, এমএসএফ জানুয়ারির শুরুতে তালিকা দিতে রাজি হলেও পরে কর্মীদের নিরাপত্তা ও তথ্যের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে তা থেকে পিছিয়ে আসে। ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, এমএসএফ ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে গাজা থেকে তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে চলে যাবে।

লন্ডনভিত্তিক জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জেমস স্মিথ আল জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত মূলত ত্রাণ সহায়তাকে পদ্ধতিগতভাবে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার একটি অংশ। তিনি জানান, ইসরায়েল গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে নিশানা বানিয়ে ১ হাজার ৭০০-এর বেশি স্বাস্থ্যকর্মীকে হত্যা করেছে।

এমএসএফ জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত তাদের ১৫ জন কর্মী নিহত হয়েছেন। গাজায় চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংস্থাটি অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। বর্তমানে গাজার হাসপাতালগুলোর অন্তত ২০ শতাংশ বেড বা শয্যার জোগান দিচ্ছে এমএসএফ এবং তারা সেখানে ২০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনা করছে।

সংস্থাটির দেওয়া তথ্যমতে, শুধু ২০২৫ সালেই তারা গাজায় ৮ লাখের বেশি মেডিক্যাল কনসালটেশন এবং ১০ হাজারেরও বেশি শিশুর প্রসবকালীন সেবা দিয়েছে। এ ছাড়া তারা সেখানে খাবার পানিও সরবরাহ করে থাকে।

ত্রাণ সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, এমএসএফের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমর্থন ছাড়া গাজার জরুরি সেবা, মাতৃস্বাস্থ্য এবং শিশু স্বাস্থ্যসেবা পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে। এর ফলে মৌলিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন লাখ লাখ বাসিন্দা।

/এএ/
সম্পর্কিত
কুয়েত ও বাহরাইনে হামলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে যা বললেন আরাঘচি
ইরাকে অস্ত্র জমা দেওয়ার ঘোষণা ইরানপন্থি দুই মিলিশিয়া গোষ্ঠীর
বোফোর্ট দুর্গে ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহর হামলা
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম