অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি সেটেলারদের ধারাবাহিক হামলা ও চাপের মুখে এক ফিলিস্তিনি নাগরিক নিজের ঘর নিজেকেই ভেঙে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন। ঘটনাটি অঞ্চলটিতে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ মাহমুদ আল-মাহারিক জানান, তিনি দক্ষিণ হেবরনের মাসাফের ইয়াত্তা এলাকার খিল্লেত আল-মাফাতিহ অঞ্চলে ২৫ থেকে ৩০ বছর ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছিলেন। ভেড়া পালন ছিল তার পরিবারের প্রধান জীবিকা।
তার দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অবৈধ সেটেলারদের হামলা বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, চারণভূমিতে পশু চরানোর সময় বসতি স্থাপনকারীরা তাকে তাড়া করে এবং পরে আরও লোক নিয়ে এসে তার পশুর মালিকানা দাবি করে। হামলাকারীরা প্রায় ২০টি ভেড়া ও ছাগল এবং আরও কয়েক ডজন শাবক নিয়ে যায়, যা তার একমাত্র আয়ের উৎসে বড় ধরনের ক্ষতি করেছে।
পরবর্তীতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে তাকে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।দীর্ঘদিন সেখানে বসবাস করার পরও তাকে নিজের বাড়িতে থাকতে বাধা দেওয়া হয় বলে জানান আল-মাহারিক।
শেষ পর্যন্ত অবৈধ দখল থেকে সম্পত্তি রক্ষা করতেই তিনি প্রায় ২৫০ বর্গমিটারের নিজের বাড়ি, গবাদিপশুর ঘর ও অন্যান্য স্থাপনা নিজেই ভেঙে ফেলেন। তিনি বলেন, আমি কখনও কল্পনাও করিনি যে আমাকে নিজের ঘর নিজেকেই ভাঙতে হবে, কিন্তু চাপ ও হামলার কারণে আমার আর কোনও উপায় ছিল না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ক্রমেই বাড়ছে এবং এতে ফিলিস্তিনি জনগণের সম্পদ ও জীবিকার ওপর গুরুতর প্রভাব পড়ছে। ফিলিস্তিনের ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট রেজিস্ট্যান্স কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হামলার কারণে ১৩টি বেদুইন সম্প্রদায় বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যার মধ্যে ১৯৭টি পরিবার ও ১ হাজার ৯০ জন মানুষ রয়েছে।
একই সূত্র জানায়, ফেব্রুয়ারি মাসেই পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীরা ৫১১টি হামলা চালিয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও সেটেলারদের হামলায় ১ হাজার ১৩৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন প্রায় ১১ হাজার ৭০০ জন এবং গ্রেফতার হয়েছেন প্রায় ২২ হাজার মানুষ।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড









