ইসরায়েলি সেনাদের পিটুনিতে ফিলিস্তিনি বৃদ্ধা নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২২:১৪আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২২:১৪

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলীয় জায়ুস শহরে নিজ বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় ইসরায়েলি সেনাদের পিটুনিতে ৬৮ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে সাবরিয়া শামাসনেহ নামের ওই বৃদ্ধার বাড়িতে সেনারা তছনছ চালায় এবং পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ খবর জানিয়েছে।

সাবরিয়ার স্বামী ওয়ালিদ শামাসনেহ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, অভিযানের কিছুক্ষণ আগে তার পুত্রবধূ ভয়ে তাকে জানান যে বাইরে ‘চোর’ এসেছে। তিনি অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পান এবং দেখেন বাগানের সদর দরজাটি জোর করে খোলা হয়েছে। এর পরপরই ইসরায়েলি সেনারা সদর দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পরিবারটিকে আতঙ্কিত করে তোলে।

ওয়ালিদ বলেন, ‘ইসরায়েলি কর্মকর্তা আমার কাছে এমন কিছু মানুষের নাম জানতে চাইছিলেন যাদের আমি চিনি না। এরপর তারা আমাদের সবাইকে ঘরের এক কোণে জড়ো করে অন্য ঘরগুলোতে তল্লাশি শুরু করে।’

একপর্যায়ে সাবরিয়া তার ছেলে হাসানকে গ্রেফতারের ভয়ে নড়াচড়া শুরু করেন এবং তাকে ডাকতে থাকেন। তখন সেনারা তাকে রাইফেলের বাট দিয়ে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং চিৎকার করে চুপ থাকতে বলে। এতে সাবরিয়ার মাথা দেয়ালে আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং তিনি জ্ঞান হারান। তার স্বামী চিৎকার করে সাহায্যের আকুতি জানালেও সেনারা তাতে কর্ণপাত করেনি।

সেনারা চলে যাওয়ার পর স্বামী ও ছেলে মিলে সাবরিয়াকে কালকিলিয়ার দারবিশ নাজ্জাল সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। ইসরায়েলি সামরিক যানের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। হাসপাতালে পৌঁছালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জর্ডান থেকে সাবরিয়ার মেয়ের আসার অপেক্ষায় রয়েছে পরিবারটি, এরপরই তাকে দাফন করা হবে।

একই অভিযানে জায়ুস শহরে আরও এক যুবক সেনাদের হাতে লাঞ্ছিত হন এবং তার শরীরে জখম ও হাড় ভাঙার চিহ্ন পাওয়া গেছে। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, সম্প্রতি বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইসরায়েলি অভিযানের তীব্রতা এবং সেনাদের আগ্রাসী আচরণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে কালকিলিয়া ও আশপাশের এলাকায় নারীসহ কয়েক ডজন ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

/এএ/
সম্পর্কিত
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
রাস্তায় তোশক আর মুখে মুখ, দিল্লির আগুনে যেভাবে ‘হিরো’ হলেন স্থানীয়রা
সর্বশেষ খবর
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে জোর দেবে নতুন বিএসইসি
ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে জোর দেবে নতুন বিএসইসি
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী