অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি এক মন্ত্রীর নিরাপত্তা বহরের গাড়ির ধাক্কায় ১৬ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি কিশোর নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে হেবরন শহরের কাছে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোরের নাম মোহাম্মদ মাজদি আল-জাবির।
ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৬টার কিছুক্ষণ পর সাইকেলে করে স্কুলে যাওয়ার সময় গাড়িটি তাকে চাপা দেয়। যে গাড়িটি তাকে ধাক্কা দেয়, সেটি মাগেন নামের একটি নিরাপত্তা কোম্পানির ছিল, যা ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে।
এই দুর্ঘটনাটি কোন মন্ত্রীর বহরে ঘটেছে, তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। একটি নিরাপত্তা সূত্র ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজকে জানিয়েছে, বহরটি ছিল সেটলমেন্ট মন্ত্রী ওরিট স্ট্রকের নিরাপত্তার জন্য, যিনি হেবরনের একটি অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে বসবাস করেন। তবে অন্যান্য প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গাড়িটি ছিল ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গিভিরের নিরাপত্তা বহরের অংশ, যিনি নিজেও ওই শহরেই একটি অবৈধ বসতিতে থাকেন।
তবে ইতামার বেন গিভিরের কার্যালয় এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, গাড়িটি মন্ত্রীর ছিল না এবং ঘটনার সময় মন্ত্রী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তাদের ভাষ্যমতে, ওই ফিলিস্তিনি কিশোর লাল বাতি অমান্য করে রাস্তা পার হতে গিয়ে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এছাড়া চালক সামান্য আহত হয়েছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
দুর্ঘটনাটি ঘটেছে হেবরনের বেইট আইনুন জংশনের কাছে ৬০ নম্বর সড়কে, যা কিরিয়াত আরবা বসতির দিকে যায়। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত কিরিয়াত আরবা পশ্চিম তীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইসরায়েলি বসতি হিসেবে পরিচিত এবং এটি ধর্মীয় জায়নবাদ ও চরমপন্থি বসতি স্থাপনকারীদের দুর্গ। এখানে বারুচ গোল্ডস্টেইনের কবর রয়েছে, যিনি ১৯৯৪ সালে ইব্রাহিমী মসজিদে গণহত্যা চালিয়ে শিশুসহ অন্তত ২৯ জন ফিলিস্তিনি মুসল্লিকে হত্যা করেছিলেন। বসতিটিতে কাহানে পার্কও রয়েছে, যা ইহুদি আধিপত্যবাদী সংগঠন কাচ-এর প্রতিষ্ঠাতা রাব্বি মেইর কাহানের নামে নামকরণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয় দেশই সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
বর্তমানে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের ৩০০টিরও বেশি বসতি ও আউটপোস্টে প্রায় ৭ লাখ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বাস করছে, যার মধ্যে সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরাও রয়েছেন। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলো অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই








