হরমুজের বিকল্প সন্ধানে পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে হেজাজ রেল প্রকল্প, সৌদি-তুরস্ক চুক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১০ জুন ২০২৬, ১৯:০১আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ১৯:০১

ঐতিহাসিক হেজাজ রেলওয়ে প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করতে সৌদি আরবের সঙ্গে দুটি পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে তুরস্ক। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে রেলযোগাযোগ ও আঞ্চলিক সংযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালিকে এড়িয়ে একটি বিকল্প বাণিজ্য করিডোর তৈরি করা। চলমান ইরান যুদ্ধে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের কারণে প্রকল্পটিতে জোর দিচ্ছে দুই দেশ।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তুরস্কের পরিবহন মন্ত্রী আব্দুলকাদির উরালোলু বলেন,

“আমাদের অঞ্চল এখন একটি সংবেদনশীল সময় পার করছে। এই সময়ে বাণিজ্য এবং লজিস্টিক চেইনের নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই সময়ে পরিবহন খাতের বাধাগুলো দূর করা একটি কৌশলগত প্রয়োজনীয়তা।”

তুরস্কের পরিবহনমন্ত্রী আব্দুলকাদির উরালোলু মঙ্গলবার সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য রিয়াদ সফর করেন। এই চুক্তির ফলে রিয়াদ পরোক্ষভাবে ঐতিহাসিক হেজাজ রেলওয়ে পুনরুজ্জীবিত করার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হলো। এই রেললাইনটি তুরস্ক, সিরিয়া, জর্ডান ও সৌদি আরবকে যুক্ত করবে।

সিরিয়া, জর্ডান ও ইরাকের মাধ্যমে পরিবহন রুটগুলো সচল করার লক্ষ্য প্রকাশ করে তুর্কি পরিবহনমন্ত্রী আরও বলেন,

“তুরস্ক থেকে শুরু হয়ে ইরাক হয়ে সৌদি আরব পর্যন্ত দুটি পরীক্ষামূলক যাত্রা এই রুটের সম্ভাব্যতা স্পষ্টভাবেই প্রমাণ করেছে।”

গত বছর থেকেই তুরস্ক বারবার ঐতিহাসিক হেজাজ রেলওয়ে পুনরুদ্ধারের ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছে। দীর্ঘমেয়াদে এই রেললাইনটি ওমান এবং ভারত মহাসাগর পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালিকে এড়িয়ে একটি বিকল্প বাণিজ্য করিডোর তৈরি করা। এর ফলে তুরস্ক উপসাগরীয় অঞ্চল এবং ইউরোপের মধ্যে একটি ট্রানজিট হাব ও লজিস্টিক ঘাঁটিতে পরিণত হতে পারে।

এর আগে গত এপ্রিলে আঞ্চলিক সংযোগ জোরদার করতে তুরস্ক, সিরিয়া ও জর্ডান একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। সেই নথিতে সড়ক, রেল, সমুদ্র ও আকাশপথসহ সব ধরনের পরিবহনে সহযোগিতার রূপরেখা রয়েছে।

কিংবদন্তি হেজাজ রেলওয়ে ছিল অটোমান সুলতান দ্বিতীয় আবদুলহামিদের একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা। তিনি ১৯০০ সালে তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সঙ্গে সৌদি আরবের মক্কার সংযোগ স্থাপনের জন্য এই রেললাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ইসলামের দুটি পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনার অবস্থান যে হেজাজ অঞ্চলে, তার নামেই এর নামকরণ করা হয়। সম্পূর্ণ মুসলিমদের অনুদানে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এই রেললাইনটি নির্মিত হয়েছিল। দামেস্ক থেকে মদিনা পর্যন্ত বিস্তৃত এই লাইনের একটি শাখা ফিলিস্তিনের হাইফা পর্যন্ত পৌঁছেছিল।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

/এএ/
সম্পর্কিত
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে নতুন দ্বার উন্মোচন হবে: তথ্যমন্ত্রী
ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী ইউয়ান      
আল্লাহর কাছে শুকরিয়া: ট্রাম্প
সর্বশেষ খবর
‘ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদ্যুৎমন্ত্রী কেন নাটোরে বিয়ে করেন নাই, এমন প্রশ্ন করবেন না’ 
‘ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদ্যুৎমন্ত্রী কেন নাটোরে বিয়ে করেন নাই, এমন প্রশ্ন করবেন না’ 
এবার লাইভ করতে করতে থানায় আশ্রয় নিলেন সেই মাহদী
এবার লাইভ করতে করতে থানায় আশ্রয় নিলেন সেই মাহদী
কী বার্তা আসছে বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটে 
বাজেট ২০২৬-২৭ ঘোষণা কালকী বার্তা আসছে বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটে 
সবুজ অর্থনীতিতে উৎসাহ, বাজেটে আসছে একগুচ্ছ প্রণোদনা 
সবুজ অর্থনীতিতে উৎসাহ, বাজেটে আসছে একগুচ্ছ প্রণোদনা 
সর্বাধিক পঠিত
একসময় আমদানিনির্ভর রেলের ১৬০ ধরনের যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে এক উপজেলাতেই
একসময় আমদানিনির্ভর রেলের ১৬০ ধরনের যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে এক উপজেলাতেই
যে যুক্তিতে খালাস পেলেন নাসির-তামিমা
যে যুক্তিতে খালাস পেলেন নাসির-তামিমা
সচিবালয়ে টেলিফোন তার চুরির পর এবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ল্যাপটপ চুরি
সচিবালয়ে টেলিফোন তার চুরির পর এবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ল্যাপটপ চুরি
বাজেটের আগে স্বর্ণের ভরিতে কমলো ৬ হাজার ৫৯১ টাকা
বাজেটের আগে স্বর্ণের ভরিতে কমলো ৬ হাজার ৫৯১ টাকা
ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, ঘুরে দাঁড়ালো শেয়ারবাজার
ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, ঘুরে দাঁড়ালো শেয়ারবাজার