ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছানোর প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতের নির্ধারিত সামরিক ও বিমান হামলা বাতিল ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব একটি খসড়া চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছেন, যার আওতায় দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়বে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আগামী ৬০ দিনের জন্য একটি নতুন আলোচনা শুরু হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগেও বেশ কয়েকবার চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছানোর দাবি করেছিলেন। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও তার এই সর্বশেষ দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। অবশ্য এই আলোচনা সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-কে জানিয়েছে, বুধবার কাতারি মধ্যস্থতাকারী এবং ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যকার বৈঠকে দুই পক্ষের মূল মতপার্থক্য ও দূরত্বগুলো দূর করা সম্ভব হয়েছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তা অনুমোদিত হয়েছে। এই বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি আজ সন্ধ্যায় ইরানের ওপর নির্ধারিত সব ধরনের বিমান ও সামরিক হামলা বাতিল করেছি।
তিনি আরও বলেন, চুক্তির চূড়ান্ত বিষয়গুলো ধারণা এবং বিস্তারিত বিবরণ উভয় দিক থেকেই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দ্বারা অনুমোদিত হয়েছে।
ট্রাম্পের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও মধ্যস্থতাকারী কাতার ছাড়াও ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, পাকিস্তান, বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান এবং মিসর জড়িত রয়েছে।
তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, এই চুক্তিটি পুরোপুরি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর চলমান মার্কিন নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ কার্যকর থাকবে। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ও স্থান খুব শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বাকি থাকা অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের লক্ষ্যে গত বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত তেহরানে আলোচনা চালিয়ে যান কাতারের বিশেষ দূত আলী আল-থাওয়াদি এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। এই আলোচনা সম্পর্কে ব্রিফিং পাওয়া তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কাতারি ও ইরানি প্রতিনিধিরা বুধবারই এমন একটি খসড়া পৌঁছাতে সক্ষম হন, যা যুক্তরাষ্ট্রও মেনে নেবে বলে তারা বিশ্বাস করছিলেন।
সূত্রগুলো জানায়, মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। প্রথমটি হলো ইরানের জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করার প্রক্রিয়া, যা ইরানিদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয় ছিল। দ্বিতীয়টি হলো ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার ব্যবস্থা এবং কীভাবে এই কৌশলগত নৌপথটি উন্মুক্ত করা হবে তার রূপরেখা। আর তৃতীয় বিষয়টি হলো ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি মেয়াদে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার পদ্ধতি বা এই সময়ে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে সংলাপ কীভাবে পরিচালিত হবে তা নির্ধারণ করা।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইরানি কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকটি দেশকে জানিয়েছেন যে তেহরানের আলোচনায় একটি নীতিগত চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, তবে এর ওপর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সম্মতির প্রয়োজন ছিল। তবে এর পাশাপাশি ইরানি ও কাতারি পক্ষও এই বিষয়টির ওপর জোর দিয়েছে যে, গত রাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর চালানো বিমান হামলাগুলো ট্রাম্পের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে ইরানের মনে তীব্র সন্দেহের সৃষ্টি করেছিল।








