মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন অর্থনৈতিক অবরোধ ব্যর্থ হবে বলে দাবি করলেও দেশে নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে ইরান সরকার। দেশটির অন্যতম শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা সতর্ক করেছেন, ক্রমাগত মার্কিন চাপ সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, যা আবারও জনগণকে রাজপথে নামাতে বাধ্য করবে।
সোমবার ইরানের কট্টরপন্থি পুলিশ কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ-রেজা রাদান তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে বলেন, শত্রুপক্ষ মানুষের জীবিকা, জ্বালানি, অর্থনীতি ও বেকারত্বকে কাজে লাগিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে।
ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ চালুর ঘোষণার পরই এই সতর্কবার্তা এলো। এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো তেহরানকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা এবং ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যে জড়িত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর দ্বিতীয় স্তরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।
বর্তমানে চরম অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে ইরান। চলতি সপ্তাহে খোলা বাজারে প্রতি মার্কিন ডলারের দর সর্বকালের সর্বনিম্ন ২০ লাখ রিয়াল ছাড়িয়ে গেছে। দেশটিতে সাধারণ মানুষ ওষুধ ও পেট্রোলের মতো জরুরি পণ্যের তীব্র সংকটে ভুগছে। আইএমএফ-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দেশটির অর্থনীতি ৫.৪ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮.৯ শতাংশে।
বিশেষ করে পেট্রোলের মূল্য ও সরবরাহের ঘাটতিকে সরকার অন্যতম বড় রাজনৈতিক হুমকি হিসেবে দেখছে। মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে দেশটির জ্বালানি উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হয়েছে এবং তেহরান, মাশহাদ ও কারমানের পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ২০১৯ সালে আকস্মিকভাবে পেট্রোলের দাম বাড়ানোর পর ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ইতিহাস স্মরণ করে সরকার এখন বেশ সতর্ক।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর ও ২০২৬ সালের জানুয়ারির রক্তক্ষয়ী সরকারবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি এখনও ইরানি সমাজে তাজা। ওই বিক্ষোভে কর্তৃপক্ষের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ৩ হাজার ১১৭ জন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসেবে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হন। এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির কারণে সাধারণ মানুষের মনে শোক ও ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়ে রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কমান্ডার রাদান দ্রুত সাড়াদানকারী দল এবং আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজকে প্রস্তুত থাকার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া ও সমাজের ‘অন্ধকার স্তরগুলোতে’ নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্র: আল-মনিটর

গোপন সফরে মস্কোয় সিআইএ প্রধান, বৈঠকের কথা অস্বীকার রাশিয়ার






