ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ সৌদি আরবের সীমানায় ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে জরুরি সুরক্ষার স্বার্থে তড়িঘড়ি করে রিয়াদে নিজেদের সেনাপ্রধানদের পাঠাচ্ছে তুরস্ক ও পাকিস্তান। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়নে এক জরুরি বৈঠকের আহ্বানের পর শুক্রবার এই সামরিক তৎপরতা শুরু হয়।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, দেশটির চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারওগলু সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন। অন্যদিকে পাকিস্তানের ডিফেন্স ফোর্সেস প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও শিগগিরই রিয়াদ পৌঁছাবেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে হুথিদের ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর রিয়াদ এই জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানায়।
গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের যেকোনও একটি দেশের ওপর আক্রমণ তিন দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের মধ্যে এক বৈঠকে সামরিক প্রধানদের এই সম্মেলনের রূপরেখা তৈরি হয়।
তবে এই যুদ্ধে সরাসরি সেনা পাঠানোর বিষয়ে পাকিস্তান ও তুরস্ক কিছুটা সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সঙ্গে সংঘাত, আফগানিস্তান সীমান্ত উত্তেজনা এবং অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার কারণে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এমনিতেই ব্যস্ত। অন্যদিকে ন্যাটো প্রতিশ্রুতি এবং সিরিয়া সীমান্তের নিরাপত্তার কারণে তুরস্কের পক্ষেও সহজে সেনা পাঠানো কঠিন। এ ছাড়া হুথি আন্দোলনের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি ইতোমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তান ও তুরস্ক এই যুদ্ধে অংশ নিলে তাদের ‘লৌহ হস্ত’ দিয়ে মোকাবিলা করা হবে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্প্রতি সাবেক পাকিস্তানি লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদকে এই মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রথম মহাসচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে, যিনি রিয়াদে গঠিত সাধারণ সচিবালয়ের নেতৃত্ব দেবেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সহায়তার অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য সৌদি যুদ্ধবিমানে জ্বালানি সরবরাহে সম্মত হয়েছে এবং ফ্রান্স ইয়ানবু তেল টার্মিনাল পাহারা দিতে সেনা পাঠানোর কথা নিশ্চিত করেছে।
সৌদি আরবের ধর্মীয় প্রধান গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সালেহ আল-ফাওজান হুথিদের বিরুদ্ধে সেনাসদস্যদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সীমানা রক্ষাকে জীবন উৎসর্গের মতো পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একজন আঞ্চলিক কূটনীতিক জানান, হুথিরা সৌদি আরবের সামরিক ও বেসামরিক উভয় লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং সৌদি আরবও একটি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত বৃদ্ধির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
ফিলিস্তিন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যর্থ: আইরিশ প্রধানমন্ত্রী
জরুরি বৈঠকে বসছেন সৌদি, তুর্কি ও পাকিস্তানি সেনাপ্রধান
হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের পাশে মিত্র দেশগুলো