ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কারখানা অক্ষত রেখেছে এবং এসব অস্ত্রের মজুত আবার পূরণ করতে সক্ষম। শনিবার ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশ না করা মার্কিন কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন। একজন কর্মকর্তা বলেছেন, রাশিয়াও এ ইসলামি প্রজাতন্ত্রটিকে ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল এ খবর জানিয়েছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এ প্রতিবেদন এলো। এর মাত্র কয়েক দিন আগে মার্কিন গণমাধ্যমে খবর আসে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে সংঘাতে ফেরার পরিকল্পনা করতে বলা হয়েছে। খবরে বলা হয়, ইরানের জ্বালানি স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুতে কয়েক দিনের তীব্র হামলার প্রস্তুতি চাওয়া হয়েছে। যদিও ট্রাম্প নিজে বলেছেন, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাবে না।
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, আপেক্ষিক শান্ত থাকা গত কয়েক মাস ইরান নতুন করে অস্ত্র সংগ্রহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অস্ত্র কারখানা পুনর্গঠনে কাজে লাগিয়েছে। কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটিকে বলেছেন, দেশটির কাছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও জাহাজবিধ্বংসী অস্ত্র দুটিরই ভালো মজুত আছে এবং তারা দ্রুত আরও যুক্ত করতে পারে।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা চালালে কার্যকরভাবে পাল্টা জবাব দেওয়ার মতো যথেষ্ট সামরিক শক্তি ইরানের আছে। এক কর্মকর্তা বলেন, মস্কো তেহরানকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করছে। ব্লুমবার্গের মন্তব্যের অনুরোধে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাড়া দেয়নি।
ব্লুমবার্গ উল্লেখ করেছে, কর্মকর্তাদের এ মূল্যায়ন ট্রাম্প ও তার কর্মীদের মন্তব্যের পরিপন্থি। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ৩০ সেপ্টেম্বরের বক্তব্য, যেখানে তিনি বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক শিল্পক্ষমতা ও পুরো প্রতিরক্ষা ভিত্তি ধ্বংস করে দিয়েছে।
ব্লুমবার্গে উদ্ধৃত এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি নাম প্রকাশ না করা কর্মকর্তাদের ওই মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ব্লুমবার্গ কেলিকে উদ্ধৃত করে জানায়, তিনি বলেছেন, প্রথমত, অপারেশন মিডনাইট হ্যামারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের সময় মার্কিন হামলার কথা বুঝিয়েছেন।
কেলি আরও বলেন, এরপর অপারেশন এপিক ফিউরি সফলভাবে সেই প্রচলিত ঢাল ধ্বংস করেছে, যা ইরান পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর গড়তে চেয়েছিল। এর মধ্যে ছিল তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, উৎপাদনকেন্দ্র ও নৌবাহিনী। এ কথা দিয়ে তিনি চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেছেন।
এদিকে হিব্রু ভাষার দৈনিক মায়ারিভ শনিবার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে নিজের সামরিক বাহিনীকে না জড়িয়ে একাই ইরানে হামলা চালাতে চাপ দিচ্ছিল।
কোনও সূত্রের নাম না দেওয়া ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান দ্রুত অস্ত্র সংগ্রহ করছে এমন খবরের মধ্যে ট্রাম্প চেয়েছিলেন ইসরায়েল ইরানে হামলায় নেতৃত্ব দিক। কারণ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে যুদ্ধ আবার শুরু করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে চাননি।
দৈনিকটি জানায়, ইসরায়েলি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামিরের বিরোধিতা করে সতর্ক করেন, এমন পদক্ষেপে ২৭ অক্টোবরের নেসেট নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের খবর, ওয়াশিংটন আপাতত প্রস্তাব থেকে সরে এসেছে।
ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ
ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা নিহতের সংখ্যা কি বাড়ছে? নতুন হিসাব পেন্টাগনের