যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে সামরিক হামলার হুমকির মাঝেই ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পর্যালোচনার খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্পের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেওয়ার হুমকি এড়িয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইরানি কর্মকর্তা মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটরকে জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বৈঠকে বসতে অস্বীকার করে আসছিল তেহরান। তবে বৃহস্পতিবার দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পর্যালোচনা করছেন ইরানি কর্মকর্তারা, যা আলোচনার টেবিলে ফেরার ইঙ্গিত দেয়।
কাতারের মধ্যস্থতায় পরিচালিত এই প্রচেষ্টায় ইরানের বন্দর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া ও অন্যান্য ছাড়ের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শুক্রবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে কাতারের আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের তাগিদ দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্বেগ হলো ইরানের কাছে থাকা ৪৪০ কেজি উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম, যা আরও সমৃদ্ধ করা হলে অন্তত ১১টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার হতে পারে। এর বড় অংশ ইস্পাহানের ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্সে রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। পাশাপাশি ফোরদো, ইস্পাহান ও নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এছাড়া পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নামের স্থাপনাটিতেও নজরদারি চায় ওয়াশিংটন। তেহরান এটিকে সেন্ট্রিফিউজ তৈরির কারখানা দাবি করলেও ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, সেখানে গোপনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ হতে পারে। হামলা পুনরায় শুরু হলে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন ধ্বংস করার হুমকি দিয়ে রেখেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
সূত্র: আল মনিটর
যুক্তরাষ্ট্র ও ট্রাম্পকে নিয়ে মশকরা ইরানের
আইআরজিসি প্রস্তুত, মোজতবার নির্দেশ পেলেই…