চলমান রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় পাকিস্তানের সাবেক সেনাশাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফকে পলাতক বলে ঘোষণা করেছেন দেশটির বিশেষ আদালত। কয়েক দফায় সমন জারির পরও আদালতে হাজির না হওয়ার প্রেক্ষিতে বুধবার এ ঘোষণা দেওয়া হয়। একইসঙ্গে ৩০ দিনের মধ্যে মোশাররফকে আদালতে হাজির করতে ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সিকে (এফআইএ) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তান ছাড়লেন পারভেজ মোশাররফ
বিচারপতি মাজহার আলম খান মিনাখেল, বিচারপতি সৈয়দা তাহিরা সফদার এবং বিচারপতি মোহাম্মদ ইয়াওয়ার আলিকে নিয়ে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চ বুধবার এ ঘোষণা দেন। মোশাররফকে পলাতক ঘোষণা করে উর্দু ও ইংরেজী পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশের জন্য প্রসিকিউটরদের নির্দেশ দেন তারা। পাশাপাশি আদালতের বাইরে ও মোশাররফের বাড়িতে পোস্টার লাগানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়। তাছাড়া আদালতের আদেশে আরও বলা হয়েছে, ১২ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া শুনানির আগেই প্রসিকিউটররা যেন সাবেক এ স্বৈরশাসকের সকল সম্পত্তির হিসেব জমা দেন।
আরও পড়ুন: ‘উই আর নিজামী’
এর আগের শুনানিতে মোশাররফ হাজির হতে ব্যর্থ হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।
বুধবার আদালতে শুনানি চলার সময় এফআইএ’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, মোশাররফকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তার বাসভবনে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। তবে তিন সদস্যবিশিষ্ট বিচারপতির বেঞ্চের পক্ষ থেকে বলা হয়, বার বার নোটিশ দেওয়ার পরও যখন অভিযুক্ত আদালতে হাজির হননি তখন বিবাদী পক্ষের আর কিছু বলার নেই।
উল্লেখ্য, বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে মোশাররফের নাম বাদ দিতে সিন্ধু কোর্টের দেওয়া আদেশ সুপ্রিম কোর্টেও বহাল রাখার পর পরই গত ১৮ মার্চ বিদেশে যান মোশাররফ। চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাচ্ছেন বলে সাবেক এ সেনাশাসকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেসময়কার প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে অপসারণ করে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান শাসন করেন মোশাররফ। গত ২০১৩ সাল থেকে নানা ধরনের মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন তিনি। একইবছর ৫ এপ্রিল তার ওপর বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সূত্র: ডন
/এফইউ/








