ত্রিপুরার ইতিহাস বই থেকে মুছে গেলেন গান্ধী!

বিদেশ ডেস্ক
২৬ মে ২০১৬, ১৪:২৪আপডেট : ২৬ মে ২০১৬, ১৪:৩৮

ভারতের রাজস্থান বোর্ডের পাঠ্যক্রম নিয়ে বিতর্কের পর এবার ত্রিপুরা শিক্ষাবোর্ডের বিরুদ্ধে মহাত্মা গান্ধীর নাম মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে ত্রিপুরার মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের নবম শ্রেণীর ইতিহাস বই থেকে গান্ধীর নাম মুছে ফেলা হয়েছে।

ত্রিপুরার ইতিহাস বই থেকে মুছে গেলেন গান্ধী!

ত্রিপুরার রাজ্য সরকার পরিচালনা করছে বামফ্রন্ট। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার ভারতের মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টির একজন শীর্ষ নেতা। হিস্টোরি সোসাইটির সদস্য সন্তোষ সাহা অভিযোগ করেন, ইতিহাসের বইতে কমিউনিস্ট নেতা কার্ল মার্কসকে মহিমান্বিত করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, মার্ক্স ছাড়াও অ্যাডলফ হিটলার, সোভিয়েত বিপ্লব, ফরাসি বিপ্লব, ক্রিকেটের ইতিহাস থেকে শুরু করে নানা কিছুর ওপর আলাদা আলাদা অধ্যায় রয়েছে। কেবলভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ভারতের স্বাধীনতা অর্জনে গান্ধীর ভূমিকা সম্পর্কে কোন আলোকপাত করা হয়নি।’

অভিযোগের জবাবে ত্রিপুরা বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশনের প্রেসিডেন্ট মিহির দেব জানান, নতুন পাঠ্যক্রম এনসিইআরটি এর গাইডলাইন অনুসারেই করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ‘আমরা কোন কিছু যুক্ত করিনি বা বাতিলও করিনি। তবুও যদি বইতে কোন ভুল থাকে নিশ্চিতভাবেই আমরা তা সংশোধন করবো।’

আরও পড়ুন: আসছে বছর কোথায় থাকবেন ওবামা?

উল্লেখ্য, এবার ক্ষমতায় আসবার পর থেকেই ভারতের ইতিহাস আর সংস্কৃতিতে জারি থাকা গান্ধী-নেহেরুর প্রভাব রুখতে তৎপর বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট। দেশটির জাতীয় আইকন ঘোষণার ক্ষেত্রে নেহরু-গান্ধীপন্থীদের আধিপত্য রয়েছে বলে মনে করে নরেন্দ্র মোদির সরকার। আর তাই এ ধারা পাল্টাতে এবং নতুন ব্যক্তিত্বদের সামনে নিয়ে আসতে ও তাদের স্মরণে নানা অনুষ্ঠান পালনের পরিকল্পনা করে বিজেপি সরকার। এরই অংশ হিসেবে প্রতিবছর কয়েকজন করে বিশেষ ব্যক্তিকে বেছে নেওয়া হয়। রাজনীতি, সংস্কৃতি ও ইতিহাসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন কিন্তু আগে স্বীকৃতি পাননি এমন ব্যক্তিদেরই এক্ষেত্রে বাছাই করা হয়ে থাকে। এ কারণে ২০১৫ সালে ৭ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মানিত ও জাতীয় আইকন হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছিল ভারত সরকার। আর এ বছর মে মাসে জাতীয় ব্যক্তিত্ব আকারে সামনে আনা হবে গান্ধী-নেহেরু ভাবাদর্শের বাইরের ৫ জন প্রখ্যাত মানুষকে।

অবশ্য ত্রিপুরার ইতিহাস বই থেকে গান্ধীর নাম মুছে যাওয়ার সঙ্গে বিজেপি সরকারের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা, তা জানা যায়নি। বামপন্থী মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার একজন কট্টর বিজেপিবিরোধী নেতা। তিনি মোদির ইতিহাস-প্রকল্পের অংশ হিসেবে গান্ধীকে মুছে ফেলতে চাননি বলেই ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

/ইউআর/বিএ/     

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগকে আরও তীব্র করবে’
‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জনদুর্ভোগকে আরও তীব্র করবে’
নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানের শতবর্ষ পালনের আহ্বান ১৪ সাংস্কৃতিক সংগঠনের
নজরুলের ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’ গানের শতবর্ষ পালনের আহ্বান ১৪ সাংস্কৃতিক সংগঠনের
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ
মদ্যপ স্বামীকে পিটিয়ে হত্যার পর থানায় গিয়ে স্ত্রীর আত্মসমর্পণ
মিষ্টির দোকানে জরিমানা, কী ঘটেছিল ইউএনওর সঙ্গে
মিষ্টির দোকানে জরিমানা, কী ঘটেছিল ইউএনওর সঙ্গে
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের