দুর্নীতির অভিযোগে ফেঁসে যেতে পারেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর স্ত্রী সারা নেতানিয়াহু। প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে, ইসরায়েলি পুলিশ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনতে পারে।
সারার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে অর্থ নিয়ে অবৈধভাবে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগের তদন্ত করছিল দেশটির পুলিশ। রবিবার কিছু সুপারিশসহ ওই তদন্ত প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়।
আনুষ্ঠানিকভাবে ওই তদন্ত প্রতিবেদন এখনও প্রকাশিত হয়নি। তবে বিভিন্ন ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম তা হাতে পেয়েছে। তদন্তে সারার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়।
তবে সারা এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অফিস থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। নিজ স্ত্রীর সমর্থনে ফেসবুকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘সারা নেতানিয়াহু কোনও অপরাধ করেননি। যেসব অভিযোগের কথা সংবাদমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে, তা সত্য নয়। বছর বছর ধরে নেতানিয়াহু পরিবারের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়, এগুলো তার থেকে ভিন্ন কিছু নয়।’
উল্লেখ্য, নেতানিয়াহু দম্পতির বিলাসবহুল জীবন-যাপন কয়েক বছর ধরেই ইসরায়েলের জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ। সংবাদমাধ্যমও এনিয়ে সরব ছিল।
ইসরায়েলের দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা চলতি বছরের জানুয়ারিতে সারাকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যক্তিগত ভোগবিলাসে খরচের অভিযোগ প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন তিনি। সারার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ হলো – তার প্রয়াত বাবা যখন জেরুজালেমে সরকারি বাসভবনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, তখন রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে অবৈধভাবে চিকিৎসাব্যয় নেওয়া হয়।
ইসরায়েলের সরকারি পর্যবেক্ষণ কার্যালয় নেতানিয়াহু দম্পতির বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্টের অভিযোগ আনার পর তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়। জীবনব্যয় নির্বাহ এবং নেতানিয়াহু দম্পতির বিলাসবহুল বাড়ির পেছনে জনগণের দেওয়া করের অর্থ তিনি বেহিসাবিভাবে অপচয় করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে তেল আবিব পুলিশ। সে সময় নেতানিয়াহু দাবি করেন, ‘প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরাই তার স্ত্রীকে টার্গেট করেছে, যেন একইসঙ্গে তাকেও ঘায়েল করা যায়।’
দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, নেতানিয়াহু ও সারা সরকারি তহবিল থেকে তাদের পোষা কুকুরের খাবারের বিল পরিশোধ করতেন। সেই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার অভিযোগও করা হয় সারার বিরুদ্ধে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
/এসএ/বিএ/








