ইরাক ও সিরিয়া ভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর শক্ত ঘাঁটি ইরাকের ফালুজা পুনর্দখলে অভিযান শুরু করেছে সরকারি বাহিনী। নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলছে আইএস। শহর জুড়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা এড়াতে স্থানীয়রা এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছে। ফালুজা ছেড়ে পালানোর সময় বেসামরিক লোকজনকে গুলি করে হত্যা করছে আইএস। সোমবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক খবরে এ বিষয়টি জানা গেছে।
দ্য নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল (এনআরসি) জানায়, তারা বেশ কিছু মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছে। সাক্ষাৎকারে ফালুজা ছেড়ে পালিয়ে আসা মানুষেরা জানিয়েছেন, ইউফ্রেতাস নদী পার হওয়ার সময় বেসামরিক জনগণকে গুলি করে হত্যা করছে আইএস।
এনআরসি ফালুজার নিকটেই একটি শরণার্থী শিবির পরিচালনা করছে। সংস্থাটি জানায়, এখনও ফালুজা শহরে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ আটকা পড়েছেন।
ফালুজা আঞ্চলিক পরিষদের প্রধান শাকির আল-এসাওয়ি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, শহরটির মানুষ রেফ্রিজারেটর, কাপবোর্ড ও ড্রামে করে মানুষ ইউফ্রেতাস নদী পার হচ্ছে।
এক বিবৃতিতে এনআরসির ইরাকের কান্ট্রি ডিরেক্টর নাসর মুফলাহি জানান, আমাদের এখন সবচেয়ে বড় আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে আইএস এখন সাধারণ মানুষদের সরাসরি টার্গেট করছে। এটাই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় ভয়। জীবন বাঁচাতে শহরটিতে বসবাসরত বৃ্দ্ধ, নারী ও শিশুদের সবকিছু রেখে পালাতে হবে।
এদিকে, বার্তা সংস্থা এএফপি রবিবার জানিয়েছে, ফালুজার উত্তরের শহর সাকলাওয়াইয়াতে একটি গণকবর পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এখানে অন্তত ৪০০ নিহত সেনাকে সমাহিত করা হয়েছে। ২০১৪ ও ২০১৫ সালে এসব সেনাকে হত্যা করে আইএস। এছাড়া ইউফ্রেতাস নদী পার হওয়ার সময় নৌকাডুবিতে অন্তত চার বক্তি মারা গেছেন। এনআরসি জানিয়েছে, ২১ মে থেকে এ পর্যন্ত ফালুজা থেকে পালিয়ে অন্তত ৩ হাজার মানুষ শরণার্থী শিবিরে পৌঁছেছেন।
গত মাসে ফালুজা পুনর্দখলের জন্য অভিযান শুরু করে ইরাকের সরকারি বাহিনী। বাগদাদের পশ্চিমে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে ফালুজা অবস্থিত। ২০১৪ সাল থেকে শহরটি দখল করে আছে আইএস। ইরাকে আইএসের শক্ত দুটি ঘাঁটির মধ্যে ফালুজা একটি।
শনিবার ইরাকের সেনা বাহিনী জানিয়েছে, ফালুজায় তারা আইএসকে ঘিরে ফেলছে। শুধু ইউফ্রেতাস নদীর পশ্চিম তীর এখনও তারা নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি। বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বিমান হামলার সহযোগিতায় সম্প্রতি নাইমিয়াহ জেলার দক্ষিণাঞ্চল মুক্ত করেছে ইরাকি সেনাবাহিনী।
গত সপ্তাহে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদি জানান, ফালুজায় থাকা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে সেনাবাহিনীর অভিযান শ্লথ করা হয়েছে। ইরাকের অন্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী আইএসকে শহরের প্রধান কেন্দ্রে ঠেলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় প্রতিরোধের সম্মুখীন হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি।
/এএ/বিএ/








