মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থিতার লড়াই থেকে অবশেষে সরে দাঁড়াচ্ছেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। এক লাইভ স্ট্রিম ভিডিওতে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া স্যান্ডার্সের ভাষণে এই ইঙ্গিত মিলেছে। এর আগে গাণিতিকভাবে হিলারির মনোনয়ন নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পরও লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন তিনি। তবে বৃহস্পতিবারের ভাষণে রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্পকে রুখতে শিগগির হিলারির পাশে দাঁড়াবেন বলে ঘোষণা দেন তিনি। তবে স্পষ্ট করে স্যান্ডার্স মনে করিয়ে দেন, আমেরিকাকে বদলে দিতে যে রাজনৈতিক বিপ্লবের লড়াই তিনি শুরু করেছেন, তা অব্যাহত থাকবে।
স্যান্ডার্স বলেন, ‘আগামী তিন মাসের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কাজ হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরাজয় নিশ্চিত করা। শিগগিরই এই প্রক্রিয়ায় নিজের ভূমিকা নিয়ে নিতে চাই আমি।’ এ সময় সমর্থক ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন স্যান্ডার্স।
এরপরই স্যান্ডার্স মন্তব্য করেন, একটা নির্বাচন আসে, আরেকটা নির্বাচন চলে যায়। তবে সমাজের গুণগত পরিবর্তন আনতে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিপ্লবের পক্ষে নিরন্তর কাজ করতে হয়। স্যান্ডার্সের মতে, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যার শেষ নেই। ভোটের লড়াইয়ে হিলারির পাশে থাকার ঘোষণার পাশাপাশি তিনি তাই সাফ জানিয়ে দেন, ‘আমেরিকাকে বদলে দেওয়ার দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় নেমেছি। এই লড়াই চলতেই থাকবে।’ স্যান্ডার্স জানান, কাল কিংবা আগামি সপ্তাহ কিংবা আগামি মাস কিংবা আগামি বছর; এই লড়াইয়ের কোনও শেষ নেই।
আরও পড়ুন: হিলারির পাশে থাকার অঙ্গীকার স্যান্ডার্সের, তারপরও কাটছে না ধোঁয়াশা
উল্লেখ্য, স্যান্ডার্স গত এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনের প্রার্থিতার জন্য প্রচারণা শুরু করেন। শুরুতে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়ে তার মনোনয়ন নিশ্চিতের প্রত্যাশা না থাকলেও তার প্রচারণার ধরন ছিল স্বতন্ত্র। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি আর অর্থব্যবস্থাকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করেন তিনি। স্যান্ডার্স তার প্রচারণায় ধনী-গরীব ব্যবধান ও নির্বাচনে কর্পোরেট পুঁজির আধিপত্যের বিরুদ্ধেও সরব ছিলেন। সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার প্রশ্নেও তার অবস্থান স্বতন্ত্র। স্যান্ডার্স নিজের এইসব স্বতন্ত্র অবস্থানের পক্ষের লড়াইকেই রাজনৈতিক বিপ্লব বলে থাকেন।
স্যান্ডার্সের প্রতি মানুষের সমর্থন ছিল আশাতীত। ফলে স্যান্ডার্স যখন নিজের সমর্থকদের হিলারির প্রতি সমর্থন রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন, তা ট্রাম্পের জন্য বেশ বড় ভয়ের কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
/ইউআর/বিএ/








