বিলাল কায়েদের ১৪ বছরের কারাবাস শেষ হলেও তাকে ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। তার ওপর প্রয়োগ করা হয় প্রশাসনিক আটকাদেশ। আর এর প্রতিবাদে ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনি বামপন্থী দল পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন (পিএফএলপি)-এর সদস্যরা অনশন শুরু করেছেন।
ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের মেগিদো কারাগারে আটক ৬০ জন এবং গিলবাও কারাগারে আটক ৫ জন ফিলিস্তিনি ওই অনশনে অংশ নেন। তাদের সবাই পিএফএলপি সদস্য।
২০০১ সালে ১৯ বছর বয়সী কায়েদকে ১৪ বছরের সাজা দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ইসরায়েল কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত পিএফএলপি-এর সদস্য। সংগঠনটির একটি সামরিক শাখাও রয়েছে।
চলতি মাসের ১৩ তারিখ জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল কায়েদের। কিন্তু তাকে প্রশাসনিক আটকাদেশের বরাতে আরও ছয় মাস আটক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই আদেশের বলে ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ কোনও ফিলিস্তিনিকে অভিযোগ ছাড়াই ছয় মাস পর্যন্ত আটকে রাখতে পারে। আর ছয় মাস পরে কর্তৃপক্ষ চাইলে সেই মেয়াদ আরও ছয় মাস করে বাড়াতে পারে।
ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কায়েদ কারাগারে ইসরায়েলের জন্য হুমকিস্বরূপ আচরণ করেছিল, যা প্রকাশ করা যাবে না। তাই তাকে আটকে রাখা হচ্ছে।
তবে আদ্দামির প্রিজনার সাপোর্ট এবং হিউম্যান রাইটস অ্যাসোসিয়েশন-এর আইনজীবী মাহমুদ হাসান জানিয়েছেন, ইসরায়েলের পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগের কথা বলা হচ্ছে তার কোনও ভিত্তি নেই।
কায়েদের সঙ্গে কথা বলে এবং তার ফাইল দেখে হাসান জানান, কায়েদের সঙ্গে কারাগারের এক প্রহরী, আমাল কাউফের ব্যক্তিগত রাগারাগি হয়েছিল। আর তার প্রতিহিংসার ফলে কায়েদকে আটকে রাখা হচ্ছে।
হাসান আরও বলেন, ‘কায়েদ কারাগারে ইসরায়েলবিরোধী কোনও কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। কিন্তু এর পরেও তাকে আটকে রাখা হচ্ছে।’
বর্তমানে ইসরায়েলের জেলে বন্দী রয়েছেন প্রায় ৭ হাজার ফিলিস্তিনি। যার মধ্যে প্রশাসনিক আটকাদেশে বন্দির সংখ্যা ৭১৫ জন।
কায়েদের মামলাটি চলতি মাসের ২৭ তারিখ একজন সামরিক বিচারক পুনর্বিবেচনা করবেন বলে জানা গেছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
আরও পড়ুন:
সর্বোচ্চ শিয়া আলেমের নাগরিকত্ব বাতিল করল বাহরাইন
ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টায় গ্রেফতার ব্রিটিশ নাগরিক
‘তিস্তা চুক্তি নিয়ে মমতার ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে বাংলাদেশের’
/এসএ/








