ব্রিটেনে বৃহস্পতিবারের গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর বর্ণবাদ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে অনেক মানুষ শুক্রবার গণভোটের ফল প্রকাশের পর গত কদিনে বর্ণবাদী আচরণ নিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা লিখছেন ও শেয়ার করছেন।
টু্ইটারে #postrefferism হ্যাশট্যাগে সোমবার থেকে ২১ হাজার টুইট পোস্ট করা হয়েছে। বার্মিংহামের বাসিন্দা হেভেন ক্রলি লিখেছেন, ‘সকালে আমার মেয়ে স্কুলে যাওয়ার পথে দেখেছে কয়েকজন তরুণ একটি মুসলিম মেয়েকে লক্ষ্য করে চিৎকার করছে। দূর হও, আমরা তোমাদের বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছি।’
জিম ওয়াটারসন নামে একজন লিখেছেন, ‘আমার মা একটি প্রাইমারি স্কুলে কাজ করেন। একজন লাটভিয়ান মহিলা তার বাচ্চাকে দিতে এসে চোখে পানি নিয়ে বলেন – তারা আমাদের এদেশে চায় না।’
ওয়েলসের কারফিলি শহরে কনজারভেটিভ পার্টির নেতা সাজিয়া আওয়ান লিখেছেন, শুক্রবার তার টুইটারে একজন তাকে ব্যাগ-বাক্স গুটিয়ে চলে যেতে লিখেছেন। আমার জন্ম কারফিলিতে।
আওয়ান আরও লিখেছেন, 'এ দেশের জন্য আমার দুঃখ হচ্ছে কারণ বিপজ্জনক একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে...(গণভোটের) ফলে বর্নবাদী ঘৃণা স্বীকৃতি পেয়েছে।'
শুধু মুসলমান নয়, ঘৃণা-হামলার শিকার বহু পূর্ব-ইউরোপীয়রাও হচ্ছে বলে অনেক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
ইংল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় শহর হানটিংডনে ‘এদেশে আর পোলিশ ইঁদুর নয়’ লেখা কাগজ শহরের পোলিশ বাসিন্দাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পোলিশদের চিঠির বাক্সে ওই কাগজ রাখা হচ্ছে।
লন্ডনে পোলিশদের একটি সংস্কৃতি কেন্দ্রে ভাঙচুরের একটি ঘটনা তদন্ত করছে পুলিশ।
উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন। সংগঠনের প্রধান ড. সুজা শফি বলেছেন রাজনৈতিক সংকট সামাজিক স্থিতিশীলতাকে হুমকিতে ফেলছে।
লন্ডনে পোল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত জাতিগত বিদ্বেষের ঘটনাগুলোতে নিন্দা জানানোর জন্য ব্রিটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সূত্র: বিবিসি বাংলা।
/এএ/








