ফ্রান্সের নিস শহরের বাস্তিল উৎসবে ট্রাক হামলায় বিশ্বজুড়ে যে ব্যপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, তার বাইরে নেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারও। হামলা নিয়ে বিভিন্ন ছবি-পোস্ট-হাহাকার-ঘৃণা-প্রতিবাদী চৈতন্য ধরা পড়েছে টুইটারের টুইটগুলোতে।
টুইটার পোস্টের মাধ্যমে ফ্রান্সের হামলার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকে। লিন্ডা হারলসন নামের একজন লেখেন, ‘আমাদের কাছে একটা হামলার জন্য শোক পালন করারো সময় নেই, এবার আরও একটা, নিসের জন্য প্রার্থনা।’
স্তিফানি কারভিন নামের আরেকজন লেখেন, ‘এই পদ্ধতিতে (ভিড়ের মধ্যে ট্রাক চালিয়ে দেওয়া) হামলা চালানোর বিষয়ে আল কায়েদা ইন্সপায়ার ম্যাগাজিনে লিখেছে ২০০০ সালেই।’
জয়প্রকাশ নারায়ন লেখেন, ‘মানুষ যখন স্বাধীনতার উদযাপন করছিলো, তাদের ওপর এমন আক্রমণ বিশেষভাবে দুঃখজনক। একটা ট্রাক অস্ত্র হয়ে উঠে সবাইকে অসহায় করে তুলল। অসহায়ত্বের কারণ হলো বহু মানুষের।’
মুখতার আব্বাস নাকভি লেখেন, ‘ফ্রান্সের নিসে হামলা মানবতার বিরুদ্ধে আক্রমণ।'
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) বাস্তিল দিবস উদযাপনের জন্য ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাইসের প্রমেনাদে দেজ অ্যাংলেইসে আতশবাজি প্রদর্শনী দেখতে জড়ো হয়েছিলেন কয়েক হাজার মানুষ। সেখানে একটি ট্রাক ওই জমায়েতের দিকে ছুটে আসে। ফলাফল হিসেবে এ পর্যন্ত ৮৪ জন নিহত এবং বেশ ক'জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ওই ট্রাকের চালক নিহত হয়েছেন। পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি দুর্ঘটনা ছিল না। ইচ্ছাকৃতভাবেই ট্রাকটি ভিড়ের মধ্যে তুলে দেওয়া হয়। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সের ‘ট্রাক হামলাকারী’কে আগে থেকেই চিনত পুলিশ!
বিএফএম-এর খবরে বলা হচ্ছে ট্রাকের ভেতরে একটি পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে বলে পুলিশ সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে। আর ওই পরিচিতিপত্র অনুযায়ীই ট্রাক চালকের নাগরিকত্ব শনাক্ত করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন ট্রাক চালকের বয়স ৩১ বছর। তার ফ্রান্স ও তিউনিসিয়ার দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল। ওই ট্রাক চালক নিস শহরের বাসিন্দা ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
এই হামলায় এখনও কেউ আনুষ্ঠানিক দায় স্বীকার না করলেও স্থানীয় ফরাসি সংবাদমাধ্যমে আইএস-এর দায় স্বীকারের খবর প্রকাশিত হয়েছে। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
/ইউআর/বিএ/








