ইইউ-র একক বাজার থেকে বেরিয়ে নতুন চুক্তির ঘোষণা দিলেন থেরেসা মে

অদিতি খান্না, যুক্তরাজ্য
১৭ জানুয়ারি ২০১৭, ২৩:০০আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৭, ২৩:২১
image

থেরেসা মে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ)একক বাজার থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে আসা এবং নতুন বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার ব্রেক্সিট নিয়ে লন্ডনে বহুল প্রত্যাশিত এক ভাষণে এই ঘোষণা দেন তিনি।

ভাষণে মে জানান, ইইউ থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে আসা বা ব্রেক্সিট সম্পর্কিত চুক্তির বিষয়ে পার্লামেন্টে ভোট হবে। সেই সঙ্গে ইইউ-র সঙ্গে যুক্তরাজ্য নতুন করে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করবে। তার মানে বাংলাদেশসহ অন্যান্য অনেক দেশের ক্ষেত্রেই ইইউ ও যুক্তরাজ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার অব্যাহত থাকবে।

মে বলেন, ‘আমি এই বিষয়টি পরিষ্কার করতে চাই যে, আমি যার সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করছি, তা একক বাজারে থেকে অর্জন সম্ভব নয়। এই একক বাজার ত্যাগ না করার অর্থ হলো ইইউ ত্যাগ না করা।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এক মুক্ত বিশ্বে প্রবেশ করতে চাই। যেখানে চীন, ব্রাজিল ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আমাদের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ড ও ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আলোচনা চলছে।’

চলতি মাসের ২০ তারিখ ক্ষমতা গ্রহণ করতে যাওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের বরাত দিয়ে থেরেসা মে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন।

থেরেসা মে তার ভাষণে ব্রেক্সিট বিষয়ক দর কষাকষিতে অগ্রাধিকারভিত্তিক ১২টি বিষয় তুলে ধরেন। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য ও আইরিশ প্রজাতন্ত্রের মধ্যে মুক্ত চলাচল অব্যাহত রাখা, ইইউ-র সঙ্গে ট্যারিফমুক্ত বাণিজ্য, আবগারি শুল্ক বিষয়ে ইইউ-র সঙ্গে চুক্তি, গোয়েন্দা ও পুলিশিং তথ্য আদান-প্রদান এবং যুক্তরাজ্যে ইইউ নাগরিক ও ইইউ-তে যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের অভিবাসন অধিকারের নিয়ন্ত্রণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এক স্বাধীন, স্বশাসিত, বৈশ্বিক ব্রিটেন এবং ইইউ-তে আমাদের বন্ধু ও মিত্রদের মধ্যে এক নতুন ও সাম্যের অংশীদারিত্ব প্রত্যাশা করছি। ইইউ-র আংশিক, সহযোগী সদস্য, বা অর্ধেক ইইউ-র ভেতরে, অর্ধেক বাইরে থাকার মতো কিছু আমরা করত্রে চাই না।’  

মে জানান, ‘যুক্তরাজ্যের ইইউ-র একক বাজার ত্যাগ করার মানে এই নয় যে, এটিকে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাই।’ তবে ব্রেক্সিটের পর যদি ইইউ কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়, তবে তা ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্যই ক্ষতিকর হবে বলে মে সতর্ক করেন।

ইইউ-র সঙ্গে চুক্তি সম্পর্কে মে বলেন, ‘এই নতুন চুক্তির মাধ্যমে অবশ্যই যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ইইউ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মুক্ত পণ্য ও সেবা বাণিজ্য নিশ্চিত করতে হবে। এর মাধ্যমে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো ইইউ বাজারে মুক্তভাবে বাণিজ্যের সুযোগ পাবে, আবার ইউরোপীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও যুক্তরাজ্যে বাণিজ্যের সুযোগ পাবে। তবে আমার প্রস্তাবের মানে কোনওভাবেই ইইউ-র একক বাজারের সদস্য থাকা নয়।’

অভিবাসীদের প্রশ্নে মে বলেন, ‘আমাদের দক্ষ অভিবাসীদের প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের নাগরিকরাও ইইউ-র অন্যান্য দেশে অভিবাসী হিসেবে থাকতে পারেন। তবে ব্রেক্সিটের মানে হলো এর নিয়ন্ত্রণ আমাদের নিজেদের হাতে রাখা।’

প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে-র ভাষণকে বিভিন্ন মহল থেকে স্বাগত জানানো হয়েছে। ব্রেক্সিট গণভোটের পর এবারই এ সম্পর্কে ব্রিটিশ সরকারের বিস্তারিত অবস্থান উঠে এসেছে।

/এসএ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী