‘ভাই, মরে যাচ্ছি, বাড়ির খেয়াল রাখিস’

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৩:৩০, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩৬, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯

ভারতের রাজধানী দিল্লির ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার এক ব্যাগ ফ্যাক্টরিতে লাগা আগুন থেকে বেঁচে ফেরার সুযোগ পায়নি অনেক ঘুমন্ত শ্রমিক। ওই পরিস্থিতিতে রবিবার ভোরে শেষবারের মতো নিজের ভাইকে ফোন করার সুযোগ পেয়েছিলেন উত্তর প্রদেশ থেকে আসা ৩০ বছর বয়সী এক শ্রমিক। অনুরোধ করেছিলেন তার পরিবারের খেয়াল রাখতে। মোশারফ আলী নামে ওই শ্রমিকের শেষ ফোন কলটি হাতে পেয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।দিল্লির চামড়া কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের উদ্ধারতৎপরতায় অংশ নেয় দমকলকর্মীরা

রবিবার ভোরে দিল্লির রানি ঝাঁসি রোডের আনাজ মান্ডি এলাকার একটি ছয়তলা কারখানা ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড শুরু হয়। ওই সময় ঘুমিয়ে ছিল চামড়া কারখানার বেশিরভাগ শ্রমিক। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৫০ জনকে উদ্ধারে সক্ষম হয় দমকল বাহিনী। তবে মারা পড়ে ৪৩ শ্রমিক। এদেরই একজন উত্তর প্রদেশের বিজনরের বাসিন্দা মোশারফ আলী। স্ত্রী ও চার সন্তান রেখে যাওয়া মোশারফ অগ্নিকাণ্ডের পর তার শেষ ফোন কলটি করতে পেরেছিলেন তার ভাইকে।

এনডিটিভির হাতে আসা ফোনকলে মোশারফ তার ভাইকে বলেছেন, ‘ভাই, আজ মরে যাচ্ছি। সব জায়গাতে আগুন। ভাই, কাল দিল্লিতে আসিস আর আমাকে নিয়ে যাস। সব জায়গায় আগুন, পালানোর কোনও পথ নেই’।

মোশারফ বলেন, ‘আজ আমি আর বাঁচবো না। আমার পরিবারের খেয়াল রাখিস, ভাই...আমি শ্বাস নিতে পারছি না। তুলে চলে আসিস আর আমাকে নিয়ে যাস...বাড়ির খেয়াল রাখিস’।

পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের মৃত্যুর খবর প্রথমে জানানোর অনুরোধ জানান মোশারফ। তার ভাই তাকে আগুন থেকে বাঁচার চেষ্টা করতে বললে তিনি বলেন, এ’খন আর বাঁচার উপায় নেই। আমি মরে যাচ্ছি, আর হয়তো তিন-চার মিনিট লাগবে...আমি মরে গেলেও তোর সঙ্গেই থাকবো’।

দিল্লির ওই চামড়া কারখানায় চার বছর ধরে কাজ করতেন মোশাররফ। তার স্ত্রী, তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।

স্থানীয় সময় রবিবার ভোর পাঁচটা ২২ মিনিটে ওই কারখানা ভবনে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ৩৫টি ট্রাক দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গেলেও সরু রাস্তা ও ঘন বাড়িঘরের কারণে উদ্ধারকর্মীদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বেশ বেগ পেতে হয়।

উদ্ধারকর্মীরা বলেছেন, নিহতদের বেশিরভাগই শ্বাসরোধজনিত কারণে মারা গেছে। দিল্লির উদ্ধারকারী সংস্থার ডেপুটি কমিশনার আদিত্য প্রতাপ সিং বলেন, ঘটনাস্থল সরেজমিন তল্লাশি করে আমরা কার্বন মনোঅক্সাইড পেয়েছি। ভবনটির তৃতীয় এবং চতুর্থ তলার পুরোটাই ধোঁয়ায় পূর্ণ ছিলো। কার্বন মনোঅক্সাইডের মাত্রা ছিল খুবই বেশি।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ওই ভবন মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।

আরও পড়ুন: দিল্লির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৩

/জেজে/

লাইভ

টপ