ব্রিটেনে বুথ ফেরত জরিপে ক্ষমতাসীনদের জয়ের আভাস

Send
লন্ডন প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৪:৩০, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৫:৪৩, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯

গত পাঁচ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত দশটায় (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর চারটা) ভোটগ্রহণ শেষের পরপরই বুথ ফেরত জরিপের ফল সামনে এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি, আইটিভি ও স্কাই নিউজের প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে টানা চতুর্থবার ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছে কনজারভেটিভ পার্টি। আর গত নির্বাচন থেকে প্রায় ৭১টি আসন কম পেতে যাচ্ছে বিরোধী দল লেবার পার্টি। তবে ২০১৫ ও ২০১৭ সালের সর্বশেষ দুটি নির্বাচনের ফলাফলের সঠিক হিসাব দিতে পারেনি বুথ ফেরত জরিপ।

ব্রিটেনের মোট ৬৫০টি আসনের আইনপ্রণেতা নির্বাচন করতে বৃহস্পতিবার ভোট দিয়েছে ভোটাররা। আইন অনুযায়ী একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল দেশটির সরকার গঠন করে। সে হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে প্রয়োজন পড়ে ৩২৬টি আসন। তবে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন না পেলে অন্য দলের সমর্থন নিয়ে গঠিত হয় ঝুলন্ত পার্লামেন্ট।

বৃহস্পতিবার রাত দশটায় ভোটগ্রহণ শেষে প্রায় ২০ হাজার বুথ ফেরত ভোটারের মতামতের ওপর জরিপ প্রকাশ করেছে বিবিসি আইটিভি ও স্কাই নিউজ। ওই জরিপে দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ পার্টি ৩৬৮টি আসনে জয় পেতে যাচ্ছে। আর বিরোধী দল লেবার পার্টি পেতে যাচ্ছে ১৯১টি আসন। এছাড়া লিবারেল ডেমোক্র্যাট (লিবডেম) পার্টি পাচ্ছে ১৩টি, স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (এসএনপি) ৫৫টি, প্লেইড সিমরু ৩টি, গ্রিন ১টি, ব্রেক্সিট পার্টি শুন্যটি আর অন্যরা সবমিলে ১৯টি আসনে জয় পেতে যাচ্ছে।

ব্রেক্সিট তথা ব্রিটেনের ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ত্যাগের প্রশ্নে প্রায় তিন বছর ধরে পার্লামেন্টে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে গত দু'বছরের মধ্যে বৃহস্পতিবার দেশটিতে দ্বিতীয় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের কনজারভেটিভ পার্টি আগামী বছরের জানুয়ারিতেই ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকারে ফিরতে চাইছে। অন্যদিকে জেরেমি করবিনের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি ব্রেক্সিটের পরিবর্তে তাদের নানা ধরণের রাষ্ট্রীয় কল্যাণমূলক কর্মসূচিকেই তাদের প্রচারে প্রাধান্য দিয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বুথ ফেরত জরিপ সত্যি হলে ১৯৮৭ সালে মার্গারেট থ্যাচারের তৃতীয় জয়ের পর সবচেয়ে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে কনজারভেটিভ পার্টি। আর বড় ধরণের বর্জনের মুখে পড়তে যাচ্ছে জেরেমি করবিনের ব্রিটেনের ‘সত্যিকার পরিবর্তনের’ স্লোগান। জরিপের ফল সত্যি হলে মাত্র ১৯১টি আসনে জয় নিয়ে ১৯৩৫ সালের পর লেবার পার্টি সবচেয়ে খারাপ ফলাফল হবে। এতে করে দলটির নেতা জেরেমি করবিনের ওপর পদত্যাগের চাপ জোরালো হতে পারে। 

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের সঠিক অনুমান দিতে ব্যর্থ হয় বুথ ফেরত জরিপ। ওই বছর নির্বাচনি প্রচারণার সময়ে করা মতামত জরিপের চেয়ে বুথ ফেরত জরিপ তুলনামূলক সঠিক হিসাব দিলেও কনজারভেটিভ পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনুমান দিতে ব্যর্থ হয়। তখন থেরেসা মে'র নেতৃত্বে সরকার গঠন করে কনজারভেটিভ পার্টি। ২০১৭ সালের নির্বাচনে বুথ ফেরত জরিপে বলা হয়  কনজারভেটিভ পার্টি একক বৃহত্তম দল হচ্ছে। এতে বলা হয়, দলটি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় গঠিত হবে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট। তবে সেবারও জরিপের অনুমান ভুল প্রমাণ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে সরকার গঠন করে কনজারভেটিভ পার্টি।

বৃহস্পতিবারের সাধারণ নির্বাচনে বুথ ফেরত জরিপের ফলাফল সত্যি হচ্ছে কিনা তাআর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে জানা যাবে। রাত দশটায় ভোটগ্রহণ শেষে প্রতিটি আসনেই শুরু হয়েছে ভোটগণনা। শুক্রবার ভোর (বাংলাদেশ সময় দুপুর) থেকেই বেশিরভাগ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো। 

 

/জেজে/

লাইভ

টপ