‘প্রয়োজনে রাজ্যপালকে ছাড়াই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন’

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯:৪৫, জানুয়ারি ১৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫৪, জানুয়ারি ১৪, ২০২০

প্রয়োজনে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে ছাড়াই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান করা হবে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সোমবার সন্ধ্যায় এক অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে এমন মন্তব্য করেন তিনি। মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দৃশ্যত যেভাবে রাজ্য সরকারকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক সমালোচনা করছেন রাজ্যপাল তার জেরেই ওই মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।

পার্থ চট্টোপাধ্যায় অবশ্য একইসঙ্গে এটাও বলেছেন যে, যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বশাসিত সংস্থা, তাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই।

আগামী ২৮ জানুয়ারি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় এক অনুষ্ঠানে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান, সমাবর্তনে রাজ্যপাল উপস্থিত থাকবেন কিনা? উত্তরে তিনি বলেন, সাধারণ পরিস্থিতিতে এ ধরনের অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসাবে রাজ্যপালকে আমন্ত্রণ করতে হয়। কিন্তু পরিস্থিতি সেই নিয়মের বিপরীত ভাবতে বাধ্য করছে।

পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘তিনি ধারাবাহিক টুইটের মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিটি উদ্যোগ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে চলেছেন। এতে পরিষ্কার যে রাজ্যপাল হিসেবে তিনি নিজের মর্যাদা রক্ষা করতে পারছেন না। সুতরাং, আমাদেরও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবতে হচ্ছে।’

সোমবার উপাচার্য ও উচ্চ শিক্ষা সচিবের সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্যে রাজভবনে বৈঠক আহ্বান করেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। কিন্তু কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বা অন্য কর্মকর্তারা এতে অংশ না নেওয়ায় তার ডাকা ওই বৈঠক ভেস্তে যায়।

উচ্চ শিক্ষা দফতরের তরফে এক চিঠির মাধ্যমে শুক্রবারই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, এ ধরনের বৈঠকের আয়োজন করে উচ্চ শিক্ষা সংসদ। আচার্য-রাজ্যপালের এ ধরনের উদ্যোগের কোনও প্রয়োজন নেই। একান্ত যদি করতেই হয়, তবে রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশোধিত বিধি মোতাবেক উচ্চ শিক্ষা দফতর বা শিক্ষামন্ত্রীর মাধ্যমে সেই আমন্ত্রণ জানাতে হবে। সেই বিধি মেনে উপাচার্যদের কাছে আচার্যের পক্ষ থেকে চিঠি যায়নি। তাই কোনও উপাচার্যই রাজভবনে আয়োজিত ওই বৈঠকে হাজির হননি।

এদিকে আচার্য হিসাবে স্বাক্ষর না করেই সম্প্রতি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কিত একটি ফাইল রাজ্যপাল শিক্ষা দফতরে ফেরত পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর বিক্ষোভের জেরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে ঢুকতেই পারেননি ধনখড়। সেদিনই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আচার্যের অনুপস্থিতিতে সিনেট বৈঠক করে ২৮ জানুয়ারি সমাবর্তনে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাম্মানজনক ডি-লিট ডিগ্রি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

/এমপি/

লাইভ

টপ