চীন ‘গুরুতর পরিস্থিতির’ মোকাবিলা করছে : শি জিনপিং

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৩:১৭, জানুয়ারি ২৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:২০, জানুয়ারি ২৫, ২০২০

চীনে দ্রুত গতিতে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শনিবার ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর বৈঠকে তিনি বলেছেন, দেশ ‘গুরুতর পরিস্থিতির’ মোকাবিলা করছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
বৈঠকে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দেন শি জিনপিং। চীনে ইতোমধ্যেই করোনা ভাইরাসে অন্তত ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শনিবার চান্দ্র নববর্ষের সরকারি ছুটির দিনে এ বৈঠকে মিলিত হন শি জিনপিং। এ সময় বিদ্যমান পরিস্থিতির ব্যাপারে কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দেন তিনি।

চীনের উহান শহর থেকে উৎপত্তি হওয়া এ ভাইরাস ইতোমধ্যেই রাজধানী বেইজিংসহ চীনের ২৯টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২০ বছরে চীন এবং বাকি বিশ্বের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট যোগাযোগ দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। উহানের এক কোটি ১০ লাখ বাসিন্দা এখন সরাসরি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গন্তব্যের পাশাপাশি বাড়ির কাছের সিউল, ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর ও সিঙ্গাপুরের মতো শহরে যেতে পারে। সে কারণেই ভাইরাসটি চীনের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, নেপাল, ফ্রান্স ও সৌদি আরবসহ অন্তত ১২টি দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলেছে। প্রায় সব ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, আক্রান্তরা সম্প্রতি চীন সফর করেছেন।

চীনে আক্রান্ত ও মৃতের বেশিরভাগ খবর মূলত হুবেই প্রদেশ থেকেই আসছে। তবে জাতীয় পর্যায়ে এ সংক্রান্ত বিশদ কোনও ডাটা প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। অবশ্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল হুবেই প্রদেশের উহান শহরে গণপরিবহন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। উহানসহ মোট তিনটি শহরের প্রায় দুই কোটি মানুষকে শহর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিল্প ও পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে জনপ্রিয় ও জমজমাট শহর উহানে এখন কার্যত সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে।

এমনিতেই এই সপ্তাহে চীনা নববর্ষ উপলক্ষে প্রচুর মানুষ ছুটি কাটাতে বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করবেন। তবে এইবার প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আনন্দ উদযাপনে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।

শ্বজুড়ে ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিশেষ করে চীন ফেরত যাত্রীদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

উহান থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া প্রভৃতি দেশে। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী বুধবার পর্যন্ত কলকাতা, মুম্বাই, দিল্লি, চেন্নাইসহ সাতটি বিমানবন্দরে ৪৩টি ফ্লাইট এবং ১২ হাজার যাত্রীকে পরীক্ষা করে দেখা হবে।

মহামারী ঠেকাতে ১০ দিনে হাজার বেডের হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বেইজিং। আক্রান্তদের চিকিৎসায় উহান সেন্ট্রাল সিটিতে নতুন এ হাসপাতাল তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে সেখানে চিকিৎসা শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এক ভিডিওতে দেখা গেছে, উহান সেন্ট্রাল সিটিতে হাসপাতাল নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে কয়েক ডজন ট্রাক। এর সঙ্গে রয়েছে মাটি খোঁড়ার যন্ত্র। হাসপাতালের আয়তন হবে ২৫ হাজার বর্গকিলোমিটার। এতে একসঙ্গে হাজারো রোগীর চিকিৎসা করা সম্ভব।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অঞ্চলটিতে ইতোমধ্যেই যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলোতে যথেষ্ট সংখ্যক বেড নেই। তাই নতুন হাসপাতাল তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাসের মোকাবিলার জন্য বেইজিংয়ের অল্প দূরে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন হাসপাতাল তৈরি হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ভাইরাসজনিত ঠাণ্ডা বা ফ্লু-র মতো হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, কাশি বা নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা যাবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ভাইরাসটির প্রাথমিক উৎস কোনও প্রাণী হতে পারে। তবে চীনা কর্মকর্তারা মনে করছেন, এর সঙ্গে উহানের একটি সামুদ্রিক খাবারের বাজারের সম্পর্ক রয়েছে। কেননা স্থানীয় ওই বাজারে যারা যাতায়াত করেছেন, তাদের মধ্যেই প্রথম এ ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসের কোনও ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়ায় এর সংক্রমণ থেকে বাঁচতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র : আল জাজিরা, রয়টার্স।

/এমপি/

লাইভ

টপ