পাওনা ৫০ হাজার কোটি টাকা চেয়ে মোদিকে মমতার চিঠি

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০:১৩, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:১০, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তাদের পাওনা ৪৯ হাজার ৬১৯ কোটি টাকা (রুপি)। বারবার বলেও তা পাওয়া যাচ্ছে না। কলকাতাভিত্তিক আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে সেই পাওনা টাকা চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সময়মতো পাওনা টাকা না পাওয়ায় রাজ্য চালাতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে চার পাতার চিঠিতে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মোদিকে তিনি লিখেছেন, ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আপনাকে অনুরোধ করছি। প্রাপ্য টাকা পেলে রাজ্যে আরও উন্নয়ন করবো’। 

জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে কলকাতা বন্দরের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। রাজ্যের দাবিদাওয়া নিয়ে সেদিন রাজভবনে গিয়ে মোদির সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎ করেছিলেন মমতা। প্রধানমন্ত্রী তাকে দিল্লি গিয়ে আলোচনা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সে কথা মুখ্যমন্ত্রীই তখন সাংবাদিকদের জানান। এরপর রাজ্য বাজেট হয়ে গেছে। ২০১৯-’২০ আর্থিক হিসাব দেখে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লেখেন মমতা।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে ‘ন্যায্য’ দাবি জানিয়ে রাজ্যের পাওনা টাকা চেয়েছেন মমতা। এরমধ্যে ২০১৯-২০ অর্থবর্ষের বাজেটে উল্লিখিত কেন্দ্রীয় করের অংশ হিসেবে প্রাপ্য ১১ হাজার ২১২ কোটি টাকা (রুপি)। কেন্দ্রীয় অনুদান বাবদ পাওনা ৩৬ হাজার কোটি রুপি। জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ রাজ্যের ভাঁড়ারে ২৪০৬ কোটি টাকা (রুপি) আসার কথা। কেন্দ্রীয় প্রাপ্য করের টাকা প্রতি মাসের প্রথম দিনের বদলে ২০ তারিখে পাওয়ায় কোষাগারের নগদে টান পড়ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় অনুদানের টাকা দ্রুত বরাদ্দ করার জন্য লিখেছেন মমতা। জিএসটি ক্ষতিপূরণের অক্টোবর-নভেম্বরের পাওনা টাকা কেন্দ্র দিয়েছে ফেব্রুয়ারিতে। এই খাতেও রাজ্যের প্রাপ্য ২৪০০ কোটি টাকা (রুপি)। 

অর্থ-কর্তাদের কেউ কেউ অবশ্য জানাচ্ছেন, কেন্দ্রীয় করের ৪২% রাজ্যের পাওয়ার কথা। ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে কর আদায় কম হওয়ায় রাজ্যের ভাগে টাকাও জুটেছে কম। কেন্দ্রীয় অনুদান বাবদ যে ৩৬ হাজার কোটি টাকা (রুপি) রাজ্যের পাওনা বলে দাবি করা হয়েছে, তার মধ্যে ২৩ হাজার কোটি বুলবুলের ক্ষতিপূরণ বাবদ। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের প্রশ্নে কেন্দ্রের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকায় সে টাকা পাওয়ার আশা কম। তবে জিএসটি ক্ষতিপূরণের দাবি ন্যায্য, দিল্লি তা দিতেও বাধ্য বলে মনে করছেন অর্থ-কর্মকর্তারা। নবান্নের এক শীর্ষ কর্মকর্তা আনন্দবাজারকে বলেছেন, ‘প্রতিবারই বকেয়া করের টাকা মার্চ মাসের শেষে মেলে। এবারও যাতে তার অন্যথা না-হয় সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।’

/বিএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ