সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা রুশ ও তুর্কি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২:৩১, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৩৪, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২০

সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে তুর্কি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুলুসি আকার-এর সঙ্গে কথা বলেছেন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু। শনিবার দুই নেতার মধ্যে এ ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তারা সিরিয়ার উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।
তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইদলিবে সংঘাত নিরসনের একটি উপায় খুঁজে বের করার বিষয়ে দুই মন্ত্রীর মধ্যে কথা হয়েছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই মন্ত্রী ইদলিবকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এ ফোনালাপের আগে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরীয় সীমান্তে প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনুরোধ জানায় আঙ্কারা। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘সম্প্রতি আমরা প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য অনুরোধ পেয়েছি। কিন্তু এ ব্যাপারে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’ তুর্কি সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, রাশিয়া সমর্থিত সিরীয় বাহিনীর ভবিষ্যৎ হামলা থেকে তুরস্ককে রক্ষায় সীমান্তে দুইটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ জানিয়েছে আঙ্কারা। বর্তমানে সেখানে মস্কো সমর্থিত সিরীয় বাহিনী এবং তুরস্ক সমর্থিত বিদ্রোহীরা মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।

সম্প্রতি সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সর্বশেষ অবস্থান ইদলিবের দখল নিতে রাশিয়ার সহায়তায় সেখানে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালায় আসাদ বাহিনী। এতে আঙ্কারা সমর্থিত বিদ্রোহীদের সঙ্গে আসাদ বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সিরীয় বাহিনীর হামলায় তাদের দুই সেনা নিহত ও অপর পাঁচ জন আহত হয়েছে। পাল্টা হামলায় ৫০ জনেরও বেশি সিরীয় সেনাকে হত্যার দাবি করেছে তারা। তবে সিরীয় যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী একটি ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা জানিয়েছে, পাল্টাপাল্টি হামলায় উভয় পক্ষের অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে শুরু হওয়া সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে নিহত হয়েছে কয়েক লাখ মানুষ। আর ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়েছে দেশটির অর্ধেকেরও বেশি নাগিরক। তাদের বেশিরভাগই আশ্রয় নিয়েছে প্রতিবেশী তুরস্কের বিভিন্ন আশ্রয় শিবিরে। আঙ্কারা সিরীয় নাগরিকদের তাদের নিজ দেশে ফেরাতে চায়। অন্যদিকে রাশিয়ার সহায়তায় যে কোনও মূল্যে দেশজুড়ে আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় মরিয়া আসাদ বাহিনী। ফলে ইদলিবে তুর্কি বাহিনীর সঙ্গে দফায় দফায় সংঘাতে জড়িয়েছে আসাদের অনুগত সেনারা। এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সঙ্গেও তুরস্কের সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই শনিবার সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

/এমপি/

লাইভ

টপ