দিল্লিতে হত্যা-ধ্বংসযজ্ঞের সময় কোথায় ছিলেন নেতারা?

দিল্লিতে হত্যা-ধ্বংসযজ্ঞের সময় কোথায় ছিলেন নেতারা?

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬:২৪, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৩৮, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২০

ভারতের সেক্যুলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টির নেতারা। কিন্তু দিল্লির সাম্প্রদায়িক সহিংসতার আগুন ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন তারা?

ভারতীয় রাজনীতিতে সহিংসতা যেন নিউক্লিয়াসের মতো। তালিকা করা হলে তা অনেক দীর্ঘ হবে। রাজনীতিকরা চরিত্রগতভাবে জোয়ার-ভাটায় নজর রাখতে আগ্রহী। শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগকারীরা যেমন সূচকের ওঠানামায় লক্ষ্য করেন। ২৪ ফেব্রুয়ারি বিজেপির দিল্লির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পরিস্থিতিও ছিল একই রকম আগ্রহ উদ্দীপক। ওই দিন মধ্যম সারির কয়েকজন নেতার চোখ যেন সাঁটা ছিল টেলিভিশনের পর্দায়। আহমেদাবাদের মোতেরা স্টেডিয়ামে মোদি-ট্রাম্পের সমর্থনে গগন বিদারী স্লোগান দেখছিলেন। ওই সময় চ্যানেলটি ‘অন্য শিরোনামে’ চলে যায়। মূলত উত্তর-পূর্ব দিল্লির সহিংসতায়। ওই খবরের মূল কেন্দ্র ছিলেন অল্প সময়ের জন্য দিল্লির বিজেপি নেতা কপিল মিশরা।

মিশরার বক্তব্য উপস্থিত নেতাদের মধ্যে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়। এক নেতা জিজ্ঞেস করেন, ‘তিনি কেন এমনটি করছেন?’ আরেকজন বলেন, ‘দিল্লির সভাপতি হতে চাইছেন তিনি। মনোজ তিওয়ারি প্রচণ্ড সমালোচনার মুখে রয়েছেন এবং মিশরা নিজেকে সামনে নিয়ে আসছেন’। শহরের তৃণমূলে কাজ করা অপর এক বিজেপি নেতা জানান, মিশরার জন্য এরচেয়ে ভালো সুযোগ আর হতে পারে না। তিনি বলেন, ‘উত্তর-দিল্লিতে সামান্য উসকানিই যথেষ্ট। এখানে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের দেশি অভিবাসীসহ বাংলাদেশি অভিবাসীরাও রয়েছেন। সব সময় এলাকাটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। হোক তা ১৯৮৪ বা ১৯৯২। এখন সিএএ-এনআরসি নিয়ে মুসলমানরা আতঙ্কে রয়েছে। ফলে তাদেরকে হাতিয়ার বানানো খুব সহজ।’

কিন্তু মঙ্গলবারের সহিংসতার আগুনের ধোঁয়া যখন আকাশ থেকে মিলিয়ে যেতে থাকে তখন কয়েকটি প্রশ্ন সাধারণভাবে উঠতে শুরু করে, অনেকের মনেই জিজ্ঞাসা– কোথায় ছিলেন নেতারা? যে সহিংসতায় পুরো দেশ স্তম্ভিত, এমন ঘটনায় কেন তারা একেবারে অনুপস্থিত? এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত? বিজেপি সরকার কেন রাজ্যে তাদের যত শক্তি আছে সেগুলো সহিংসতা দমাতে কাজে লাগালো না?

ভবিষ্যতে এই ব্যর্থতাগুলোর রাজনীতিকরণ হবে। কেন দিল্লি পুলিশের নিয়ন্ত্রক অমিত শাহ কঠোর হওয়ার বার্তা দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠালেন না? কেন দিল্লির মানুষকে শান্তির আহ্বান জানাতে প্রধানমন্ত্রী মোদির তিনদিন সময় লাগলো? যখন মহল্লার পর মহল্লা জ্বলছিল তখন কোথায় ছিল দিল্লির জনসাধারণের প্রিয় দল আম আদমি পার্টি? কংগ্রেস কি ১৯৮৪ সালের কর্মফলের অপমানে স্মৃতি রোমন্থণ করছিল?

২৬ ফেব্রুয়ারি শেষ পর্যন্ত দিল্লি হাই কোর্টও প্রশ্ন তুলেন: কেন উসকানিদাতা বিজেপি নেতাদের নাম নেই এফআইআরে? মিশরার পাশাপাশি আদালত অনুরাগ ঠাকুর ও প্রভেশ ভার্মার কথাও বলেন। যারা বিধানসভা নির্বাচনে বিতর্কিত মন্তব্য করে খবরের শিরোনাম হয়েছিলেন। এসব উসকানিমূলক বক্তব্য ও পরে সহিংসতাকে একসূত্রে দেখা হচ্ছে। দিল্লির প্রাক-নির্বাচন পরিস্থিতিতে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের ফলাফল হলেন নিহতরা।

কংগ্রেস নেতা নওয়াব মালিক এই ঘটনাকে ‘২০০২ সালের গুজরাট মডেল’-এর পুনরাবৃত্তি বলে উল্লেখ করেছেন। যাতে নিষ্ক্রিয় বা অপকর্মের সহায়তাকারী হিসেবে পুলিশকে তুলে ধরেছেন।

আহমেদাবাদভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক জ্ঞানশ্যাম শাহও একমত যে, দিল্লিতে পরাজয়ের পর বিজেপির বেপরোয়া মনোভাব ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক এজেন্ডার সঙ্গে এই সহিংসতার যোগসূত্র রয়েছে। এই সাম্প্রদায়িক বিভাজন হয়ত দিল্লিতে কাজে আসেনি (যদিও বিজেপির ভোট ৩০ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৮ শতাংশ)। তবে এই বছরে বিহার, আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে নির্বাচন। এই তিন রাজ্যেই হিন্দু-মুসলিম সহিংসতা চরম আকার ধারণ করতে পারে। এবার সিএএ-এনআরসি নিয়ে সেই মেরুকরণ হয়েছে।  

জ্ঞানশ্যাম শাহ ব্যাখ্যা করে বলেন, যখনই বিজেপির আদর্শ হুমকির মুখে পড়ে তখন দলটি সুবিধা আদায় করতে চায় পরিকল্পিতভাবে। এখন সিএএবিরোধী আন্দোলন চলছে, এর মধ্য দিয়ে নতুন সেক্যুলার শক্তির উত্থান ঘটছে যদিও তা বিচ্ছিন্ন ও বিভক্ত। ১৯৭৪-৭৫ সালে আরএসএস/জনসংঘ/এবিভিপি জয়প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বে ইন্ডিরা গান্ধীর স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে এবং জাতীয় রাজনীতিতে হিন্দুত্ববাদ স্থান করে নেয়। একই ধরনের পদক্ষেপ ছিল ১৯৮০’র দশকে আসাম আন্দোলনে। মূলত বাঙালি অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হলেও বিজেপি সেটিকে মুসলিমবিরোধিতায় নিয়ে যায়। চার দশক পর সেই পদ্ধতি আবারও নেওয়া হচ্ছে।

বিজেপির রাজনীতি মোটামুটি স্পষ্ট যদিও অনেকের কাছেই তা গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু আম আদমি পার্টি ও কংগ্রেসের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরা এখন একটি বিব্রতকর প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছেন। বিজেপি ভারতের দীর্ঘদিনের সেক্যুলার চরিত্র ছিন্নভিন্ন করছে বলে দাবি করা এই দুই দলের নেতারা বিদ্বেষ ও ঘৃণবাদী সহিংসতার সময় কী করছিলেন? উত্তর- কিছুই না।

এদের মধ্যে যার অনুপস্থিতি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে তিনি আর কেউ নন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। মাত্র কয়েকদিন আগে যিনি টানা তৃতীয়বার বিপুল ভোটে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন।

আমজনতার পাশে নেই আম আদমি পাটি

কেজরিওয়ালের দলের দাবি, দিল্লি পুলিশ তাদের রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণে নয়। কিন্তু এর আগে কখনও এমন নীরব থাকেনি দলটি। এছাড়া এমন পরিস্থিতিতে প্রভাবশালী একজন রাজনৈতিক নেতার করণীয় অনেক কিছুই আছে। কেজরিওয়ালের এই নিষ্ক্রিয়তা ইচ্ছাকৃতবলেই দৃশ্যমান হচ্ছে। আরও খারাপ হলো দলের বৈঠকে কঠোর পদক্ষেপের সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। দলের নেতা সঞ্জয় সিং আক্রান্ত এলাকায় শান্তি মিছিল করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু এতে রাজি হননি হ্যাটট্রিক জয় পাওয়া কেজরিওয়াল। এর বদলে তিনি রাজঘাটে শান্তির জন্য প্রার্থনায় সম্মতি দিয়েছেন। কেন?

২৫ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’র সঙ্গে বৈঠকের পর কেজরিওয়াল দিল্লি পুলিশের প্রতি আস্থা রেখেছেন। একদিন পর তিনি সেনাবাহিনী নামানোর আহ্বানের মতো সামান্য অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। মূলত, কেজরিওয়াল দেশজুড়ে নিজের পার্টিকে বিস্তৃত করতে চান এবং এক্ষেত্রে কোমল হিন্দুত্ববাদের ঘোড়ায় সওয়ার হওয়ার পরিকল্পনায় অনঢ় তিনি।

এমনকি বিজেপির এক নেতাও আম আদমি পার্টির নেতার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘কেজরিওয়াল এখন কেন নিরাপদ দূরত্বে। নির্বাচন শেষ ও তিনি জিতেছেন। আক্রান্ত এলাকায় যাওয়ার ক্ষেত্রে কে তাকে বাধা দিচ্ছে? মাত্র কয়েকদিন আগে যে মানুষেরা তাকে ভোট দিয়েছেন তাদের জন্য এটি বড় পরাজয়।’

অহিংসার পূর্বসুরী ও অন্যরা

দিল্লির রাজনীতিতে আম আদমি পার্টির অবস্থান শক্তিশালী। তবে জাতীয় ক্ষেত্রে ভারতে বিরোধী দল বলতে এখনও কংগ্রেস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লোকজন মহাত্মা গান্ধীর নোয়াখালী পরিদর্শনের কথা তুলে ধরছেন। কিন্তু তার পারিবারিক পদবী যারা এখন ধারণ করছেন তাদের কী অবস্থা?

রাজনৈতিক গুজব বিশ্বাসীদের মতে, রাহুল গান্ধী ভারতেই নেই। সত্যিকার অর্থে কেউ জানে না। কিন্তু ওয়ানাড় থেকে নির্বাচিত এমপি কংগ্রেস নেত্রী ও মা সোনিয়া গান্ধীর ডাকা কেন্দ্রীয় ওয়ার্কিং কমিটির ২৬ ফেব্রুয়ারির বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। যা ছিল সহিংসতার তিনদিন পর। হ্যাঁ, সোনিয়া গান্ধী একটি বিরল সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে স্পষ্টভাবে অমিত শাহ’র পদত্যাগ চেয়েছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এর আগে কেন তিনি কথা বলেননি? কেন তিনি ২৪-২৫ ফেব্রুয়ারি দলের নীতিনির্ধারকদের নিয়ে বৈঠক ডাকেননি? তাদের এই নীরবতার সমালোচনা করেছেন ভারতীয় মন্ত্রী প্রকাশ জাবেদকর। তিনি বলেছেন, ‘যারা শিখদের হত্যায় দায়ী তারা কীভাবে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে সফলতা ও ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলবে’।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দিল্লি কংগ্রেসের নেতাদের একাংশ কেজরিওয়াল সরকার কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে তা দেখতে চেয়েছেন। এছাড়া নির্বাচনে পরাজয় নিয়ে স্থানীয় নেতৃত্বের একে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর প্রবণতাও ছিল। সাবেক এক লোকসভা এমপি বলেন, ‘আক্রান্ত এলাকায় ত্রাণ দিতে দলের কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার মতো কোনও নেতাও নেই’।

অপর বিরোধী দলগুলোর অবস্থাও একই। গত ছয় বছরে মোদির শাসনামলের বিরোধিতা করতে বিভিন্ন সময়ে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। কিন্তু এবার সহিংসতার তিনদিন পরও সবদলের কোনও প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ দাবি করেনি। এমনকি আদালতে বিচার চাওয়ার দায়ও সুশীল সমাজ ও আক্রান্তদের নিজেদের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

আরজেডি’র রাজ্যসভা এমপি মনোজ ঝা বলেন, ‘স্বীকার করছি বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া আরও শক্তিশালী হতে পারত। উত্তেজনা শুরুর সময় থেকে যৌথভাবে আমাদের সেখানে থাকা উচিত ছিল। কিন্তু আমরা ব্যর্থ হয়েছি।’

বামদের বোধোদয়ও বিলম্বিত। কয়েকজন নেতা অমিত শাহ’র পদত্যাগ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে আক্রান্তদের দেখতে গিয়েছিল। তবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা বামদের ঐতিহ্য ম্রিয়মান হচ্ছে। সিপিআই(এম) নেতা সিতারাম ইয়েচুরি কর্ণাটকে সিএএবিরোধী সমাবেশে ভাষণ দিতে ব্যস্ততার মধ্যে টুইটারে নিন্দা জানিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নীরব। মমতা বামদের ছাড়া বিরোধীদের সঙ্গে যে কোনও পদক্ষেপে রাজি এবং মোদি শাসনের বিরোধিতা করার সুযোগ কখনও হারান না। এমনকি তার দলের সোচ্চার ডেরেক ও’ব্রায়েন ও মহুয়া মৈত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের কণ্ঠ সীমিত রেখেছেন।

দলিত-মুসলিম ভাই ভাই

এই সহিংসতা দলিত-মুসলিমদের মধ্যে যে ঐক্যের কথা বলা হয় সেটির ফাটলও দৃশ্যমান করেছে। নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করছে এই দুই সম্প্রদায়। দিল্লির জামে মসজিদে দলিত নেতা চন্দ্রশেখর আজাদের ছবি যদি ভ্রাতৃত্বের প্রতীকী রূপ হয়ে থাকে থাকলেও মুসলমানদের একাংশ এখন তার প্রতি অসন্তুষ্ট। কারণ যখন পরিস্থিতি গরম হয়ে উঠতে শুরু করে তখন পাশে ছিলেন না আজাদ। ২৩ ফেব্রুয়ারি জাফরাবাদে অবস্থান কর্মসূচিতে ভিম আর্মি তাদের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীকে জড়ো করেছিল। যেখানে এই সহিংসতার সূত্রপাত। দলিতদের জন্য কোটা সুবিধা বাতিলে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে তারা দেশজুড়ে ধর্মঘটের কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল। মুসলমানরাও তাদের প্রতি সংহতি জানায়।

কিন্তু যখন ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, অগ্নিসংযোগ ও গণপিঠুনি শুরু হয় তখন মুসলমানরা ছিলেন একেবারে এতিম। যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও উঠে আসতে শুরু করেছে। সরেজমিনে দলিতরা দরিদ্র বস্তিতে মুসলিম প্রতিবেশীদের রক্ষায় এগিয়ে আসেন। যেমনটা হিন্দু ও শিখরাও করে থাকেন। আজাদকে ‘নতুন ইমাম’ আখ্যায়িত করায় মুসলিমদের একাংশও খুশি নয়। 

ভিম আর্মির মুখপাত্র কুশ আম্বেদকারওয়াদি এই বিতর্ককে বিজেপির ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দলিত-মুসলিম ঐক্যে বিজেপি ভীত। সিএএবিরোধী বিক্ষোভে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি, এটি তাদের জন্য দুঃসংবাদ।’ মুখপাত্র জানান, গুজরাটে আরএসএস কার্যালয়ের সামনে বড় ধরনের বিক্ষোভ আয়োজনে কাজ করছেন আজাদ।

ফলে দিল্লিতে তার উপস্থিতি না থাকায় দলিত-মুসলমানের ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন ও বিতর্ক অনেকদূর গড়াচ্ছে।

ইতিহাসবিদ এস. ইরফান হাবিব বলেন, ‘দুই সম্প্রদায়ের অনেক আগ থেকেই একসঙ্গে লড়াই করা উচিত ছিল। তাদের একই কারণ রয়েছে এবং শ্রেণিগতভাবে তারা ঐক্যবদ্ধ’।

জমিয়ত-উলেমা-ই-হিন্দ’র এক মুখপাত্র বলেন, ‘এটি শুধু দলিত বা মুসলিম না, সিএএবিরোধী বিক্ষোভে আমরা সবাইকে সঙ্গে নিতে চাই। আমরা ভিম আর্মির পক্ষে বা বিপক্ষে নই।’

‘জয় ভিম, জয় মিম’ স্লোগানের প্রবক্তা আসাদুদ্দিন ওয়াইসিও একই ধরনের ঐক্যের কথা বলছেন। এই ঐক্য তার সংগঠন বিস্তারের পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মহারাষ্ট্রে সফল ঐক্যের পর বিহারেও ভিম আর্মির সঙ্গে জোট গঠন করতে চান এই মুসলিম নেতা। ওয়াইসির দলের এক সমাবেশে আজাদের উপস্থিতি এই সম্পর্ক জোরদার হওয়ারই ইঙ্গিত দেয়। যদিও দিল্লির সাম্প্রতিক সহিংসতা সেই পুরনো বিতর্ক তুলে ধরেছে ‘আশরাফ বনাম দলিত’। সূত্র: আউটলুক ইন্ডিয়া।

/এএ/

লাইভ

টপ