সিরিয়ায় মুখোমুখি তুরস্ক ও রাশিয়া, এরদোয়ান-পুতিন বৈঠক আজ

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৮:৫৯, মার্চ ০৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৬, মার্চ ০৫, ২০২০

সিরিয়ার একমাত্র বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত প্রদেশ ইদলিবে তুরস্কের সঙ্গে কার্যত যুদ্ধে জড়িয়েছে আসাদ বাহিনী। সেখানে দৃশ্যত মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে তুরস্ক ও রাশিয়া। মস্কোর পৃষ্ঠপোষকতা নিয়েই ন্যাটো জোটের শক্তিধর রাষ্ট্র তুরস্কের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে আসাদ বাহিনী। এমন পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার মস্কোতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। যদিও এর ফলাফল নিয়ে ইতোমধ্যেই সংশয় তৈরি হয়েছে। 
ইদলিবে গত কয়েক দিনের হামলা পাল্টা হামলায় তুরস্ক ও সিরিয়া, দুই দেশেরই প্রাণহানিসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বুধবার আঙ্কারা তাদের দুই সেনা নিহত হওয়ার খবর স্বীকার করেছে। এ নিয়ে ইদলিবে নিহত তুর্কি সেনার সংখ্যা সরকারি হিসাবেই অর্ধশত ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে তুরস্ক সিরিয়ার তিনটি যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে। দাবি করেছে তাদের হামলায় আসাদের ছয় শতাধিক সেনা ও ইরান সমর্থিত শিয়া বিদ্রোহী মারা গেছে।

এখনও তুরস্ক সিরিয়ায় সরাসরি রুশ সেনা বা রুশ যুদ্ধ বিমান টার্গেট করেনি। তবে বিদ্যমান পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে তেমন ঘটনা সময়ের ব্যাপার বলে সামরিক বিশ্লেষকদের অনেকেই আশঙ্কা করছেন।

‘ভয়ঙ্কর খেলায় পুতিন ও এরদোয়ান’ 

ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক গবেষণা সংস্থা ইন্সটিটিউট অব ন্যাশনাল ইন্টারেস্টের একজন বিশ্লেষক কোনোর ডিলিন। তিনি বলছেন, তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ শুরুর ঝুঁকি এখন প্রবল। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রকাশনা 'ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট' সাময়িকীতে ডিলিন লিখেছেন, ‘রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান এবং ভ্লাদিমির পুতিন ইদলিবে ভয়ঙ্কর খেলায় মেতেছেন। দুজনেরই সেখানে ভিন্ন ভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। সেগুলো চরিতার্থ করতে কেউই পিছু হটতে রাজি বলে মনে হচ্ছে না।’

তুরস্ক ন্যাটো জোটের সদস্য এবং সেনা সংখ্যার বিচারে যুক্তরাষ্ট্রের পর জোটের সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তি। তবে পারমাণবিক শক্তিধর রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি সম্পর্কে আঙ্কারা ওয়াকিবহাল।

সে কারণেই হয়তো পুতিনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে মস্কো যাচ্ছেন এরদোয়ান। উদ্দেশ্য ইদলিবের সংঘাত যেন আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে না গড়ায়। বুধবার আঙ্কারায় ক্ষমতাসীন একে পার্টির সদস্যদের এক সভার পর এরদোয়ান বলেন, মস্কোতে গিয়ে তিনি ইদলিবে দ্রুত একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য চেষ্টা করবেন।

ক্ষোভে ফুঁসছে তুরস্ক 

ইদলিবের সারাকেব শহরে রুশ সমর্থিত আসাদ বাহিনীর হামলায় ৩৩ তুর্কি সেনা নিহতের ঘটনায় ক্রোধে টগবগ করে ফুটছে তুরস্ক। এক হামলায় এতো প্রাণহানি তুর্কি সেনাবাহিনীতে গত ৩০ বছরে হয়নি। প্রতিদিনই তুরস্কের সরকার-সমর্থিত মিডিয়াগুলোতে সিরিয়ায় বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরুর আহ্বান জানানো হচ্ছে। বিরোধী রিপাবলিকান পিপলস পার্টির নেতা কেমাল কিলিচদারোগোলু বলেছেন, ‘যে দেশই আমার সেনার গায়ে হাত দেবে, তারাই শত্রু।’ তিনি রাশিয়াকেই ইঙ্গিত করেছেন। সরকার সমর্থক এমএইচপি দলের নেতা দেভলেত বাচেলি বলেছেন, ‘এখনই দামেস্ক ঢুকে আসাদের মাথায় টুপি চাপিয়ে দিতে হবে।’

প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বেশ কিছুদিন ধরে ন্যাটোর সমালোচনা করলেও সিরিয়ায় রুশ ভূমিকায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এখন তিনি তাদের দ্বারস্থ হয়েছেন। আমেরিকান কর্মকর্তারাও দফায় দফায় আঙ্কারায় যাচ্ছেন। মার্কিন সেনাবাহিনীর ইউরোপীয় কমান্ডের প্রধান জে টড ডি গত ফেব্রুয়ারিতে আঙ্কারায় গিয়ে সিরিয়ায় সহযোগিতা নিয়ে কথা বলেছেন।

ইউক্রেন সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেছেন, ক্রিমিয়াসহ ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বকে তুরস্ক সবসময় সমর্থন করবে। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর জন্য তিনি ২০ কোটি ডলার সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছেন। তার এসব কথাবার্তায় ক্ষিপ্ত হয়েছে রাশিয়া। রুশ রাজনীতিকরা এখন তা প্রকাশে দ্বিধা করছেন না। মস্কো মনে করছে, এরদোয়ান তাদের ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা করছেন।

‘রাশিয়া লড়াইয়ে প্রস্তুত’

ইদলিব পুনর্দখলের পরিকল্পনা থেকে রাশিয়া কি সরে আসতে পারে? ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ রুশ রাজনীতিক সের্গেই মারকভ রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ‘রাশিয়া শক্ত অবস্থান নিয়েছে এবং যেকোনও লড়াইয়ে তারা প্রস্তুত।’ ইদলিবের সারাকেভ শহরে রাশিয়া তাদের সামরিক পুলিশ মোতায়েন করেছে। তারা দেখতে চাইছে তুরস্ক এরপরও সেখানে হামলা করে কিনা। মারকভ বলছেন, ‘সারাকেবের ওপর যেকোনও হামলা হবে রাশিয়ার ওপর হামলা।’ সারাকেবের ওপর হামলা বলতে তিনি আসাদ বাহিনীর ওপর হামলাকে বুঝিয়েছেন।

গত সপ্তাহে ভূমধ্যসাগরে ক্রুজ মিসাইল বহনকারী নতুন যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে রাশিয়া। ইদলিব থেকে বিদ্রোহীদের হটিয়ে দ্রুত সিরিয়ার যুদ্ধ শেষ করতে উদগ্রীব হয়ে পড়েছেন পুতিন। কিন্তু আঙ্কারার কাছে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর কৌশলগত মূল্য অনেক। ফলে বৃহস্পতিবার এরদোয়ান-পুতিনের বৈঠকে ইদলিব নিয়ে সৃষ্ট সংকটের কতটা সমাধান হবে; তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। সূত্র: বিবিসি।

/এমপি/

লাইভ

টপ