যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ, নিউ ইয়র্কে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ আন্দোলনকারীদের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১২:২৩, জুন ০৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:২৯, জুন ০৩, ২০২০

কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এখনও বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র। বর্বরোচিত এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাতে মঙ্গলবার অষ্টম রাতের মতো রাজপথে নামে হাজার হাজার মানুষ। ৪০টি শহরে জারি করা কঠোর কারফিউ উপেক্ষা করেই রাজপথে নামে আন্দোলনকারীরা। এদিন নিউ ইয়র্কে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে পুলিশ। এ সময় শহরের বিভিন্ন দোকানপাটে লুটতরাজের ঘটনা ঘটে।

লস অ্যাঞ্জেলস, ফিলাডেলপিয়া, আটলান্টা ও সিয়াটলের মতো শহরগুলোতেও রাজপথে নেমে আসে বিক্ষুব্ধ জনতা। রাজধানী ওয়াশিংটনেও ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ওয়াশিংটন ডিসি ছাড়াও অন্তত ২৩টি অঙ্গরাজ্যে সক্রিয় রয়েছেন ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা। তবে কারফিউ জারি আর বিশেষ বাহিনী নামিয়েও লোকজনকে রাস্তা থেকে সরানো যাচ্ছে না। মৃত্যুর আগে ফ্লয়েডের বলে যাওয়া শেষ শব্দগুলোকে স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করছে বিক্ষোভকারীরা।

আগের দিন সোমবার উত্তাল বিক্ষোভের মধ্যেই ওয়াশিংটনের স্থানীয় একটি চার্চে যান ট্রাম্প। তবে ওই চার্চে গিয়ে কোনও প্রার্থনায় অংশ নেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার বদলে চার্চের সামনে হাতে বাইবেল উচিয়ে ধরে ফটোসেশন করেন তিনি। অথচ তার যাওয়ার পথ করে দিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে টিয়ারগ্যাস আর রাবার বুলেট ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দিয়ে এদিন সেখানে বিপুল সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়। মঙ্গলবার আবারও ওয়াশিংটনের লাফায়েত্তে পার্ক এলাকার সেই বিক্ষোভস্থলে জমায়েত হয় আন্দোলনকারীরা।

গত কয়েক দিনের সহিংসতা, লুটপাট, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের তুলনায় মঙ্গলবারের বিক্ষোভ ছিল অপেক্ষাকৃত শান্তিপূর্ণ। বিকালে ক্যাপিটাল ভবনের বাইরে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা ‘নীরবতাই সহিংসতা’, ‘ন্যায় বিচার ছাড়া শান্তি আসে না’ প্রভৃতি স্লোগান দেয়।

২৫ মে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তম শহর মিনিয়াপলিসে পুলিশ জর্জ ফ্লয়েড নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করলে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। ফ্লয়েডের গাড়িতে জাল নোট থাকার খবর পেয়ে তাকে আটক করতে গিয়েছিল পুলিশ। একজন প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণ করা ১০ মিনিটের ভিডিওতে দেখা গেছে, হাঁটু দিয়ে তার গলা চেপে ধরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ সদস্য। নিহত ফ্লয়েড নিরস্ত্র ছিলেন।  নিঃশ্বাস নিতে না পেরে তাকে কাতরাতে দেখা যায়। কৃষ্ণাঙ্গদের দাবি, বর্ণবিদ্বেষের বলি হয়েছেন ফ্লয়েড।

/এমপি/

লাইভ

টপ