যুক্তরাষ্ট্রে এবার বিক্ষোভের মধ্যেই পুলিশি নির্মমতা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৩:৪২, জুন ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৭:১৬, জুন ০৬, ২০২০

পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক জর্জ ফ্লয়েডের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বেশ কিছুদিন ধরেই বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই রাজপথে নেমে বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শামিল হচ্ছে  হাজার হাজার মানুষ। তবে এমন তীব্র বিক্ষোভের মধ্যেও নতুন করে পুলিশি নির্মমতার কিছু ভিডিও মানুষকে স্তম্ভিত করেছে।

নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বাফেলোতে দুজন পুলিশ অফিসারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একটি ভিডিওতে তাদের একজন শ্বেতাঙ্গ বৃদ্ধকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দিতে দেখা গেছে। আরেকটি ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের প্রতি পুলিশের নির্দয় আচরণের ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে।

মিনিয়াপোলিসে যেখানে জর্জ ফ্লয়েড পুলিশের নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যান, সেই শহরে তার স্মরণে একটি অনুষ্ঠান শেষ হবার মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই এসব পুলিশি নির্মমতার ঘটনা ঘটে।

জর্জ ফ্লয়েডের ওপর নির্যাতনের ভিডিও পুরো দুনিয়াতেই আলোড়ন তৈরি করেছে। ওই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও বিভিন্ন দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত আট দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে যেসব প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে তার বড় অংশই ছিল শান্তিপূর্ণ। কিন্তু কোনও কোনও বিক্ষোভে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বেশ কিছু শহরে এ কারণে কারফিউ জারি করতে হয়েছে।

অন্য একটি ঘটনায় অ্যারিজোনার পুলিশ আরেকজন কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান ডিওন জনসনের মৃত্যুর বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। ২৫ মে তারিখে যেদিন জর্জ ফ্লয়েড মারা যান, সেই একই দিনে অ্যারিজোনার ফিনিক্স শহরে মারা যান জনসন। তাকে ওই রাজ্যের পুলিশ গুলি করে হত্যা করে। পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, তার গাড়ি যান চলাচল আংশিকভাবে বাধাগ্রস্ত করছিল। এছাড়া, তাকে গাড়ির চালকের আসনে অচেতন অবস্থায় দেখা যায়।

পুলিশ বলছে, ‘সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মোকাবিলার সময় পুলিশের সঙ্গে তার ধ্বস্তাধ্বস্তি হয়। সশস্ত্র পুলিশ সদস্য তার আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে সন্দেহভাজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।’

পুলিশের কথোপকথনের অডিও রেকর্ডিং এবং পরিবহন দফতরের রেকর্ড করা ঘটনার ভিডিও যখন পরিবারের হাতে দেওয়া হয় তখনই পুলিশের এই বিবৃতি প্রকাশ হয়।

বাফেলোর ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে, পুলিশ যখন কারফিউ বলবৎ করছিল তখন ৭৫ বছর বয়স্ক একজন পুরুষ পুলিশের দিকে এগিয়ে যান। পুলিশ তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। এতে ওই ভদ্রলোক মাথায় আঘাত পান। দেখা যায়, ওই বৃদ্ধ মাটিতে পড়ে আছেন এবং তার কান থেকে গলগল করে রক্ত বেরুচ্ছে।

ওই ব্যক্তিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর দেখা যায়, তার মাথায় মারাত্মক আঘাত লেগেছে।

বাফেলো পুলিশ বিভাগ থেকে প্রথমে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছিল তাতে বলা হয়, ওই ব্যক্তি হোঁচট খান এবং ‘বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ধ্বস্তাধ্বস্তির সময়’ তিনি মাটিতে পড়ে যান। এই বিবৃতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ঘটনা নিয়ে ক্ষোভে আরও মাত্রা যোগ করেছে।

পুলিশের একজন মুখপাত্র জেফ রিনোল্ডো বলেন, যে অফিসাররা ওই বিবৃতি দিয়েছিলেন তারা ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন না।

প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, দুজন পুলিশ অফিসার ওই বৃদ্ধ বিক্ষোভকারীকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছে। পরে তাদের বরখাস্ত করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায়, নিউ ইয়র্ক শহরে একজন সরবরাহ কর্মীকে গ্রেফতার করা হয় শহরে কারফিউ শুরু হবার ২৭ মিনিট পর। অথচ ওই চালক ছিলেন জরুরি সেবা কর্মী এবং কারফিউর আওতার বাইরে।

টুইটারে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গেছে, ম্যানহাটান থেকে ইউনিফর্ম পরা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে। তার সাইকেলের পাশে সরবরাহ করার জিনিসের বাক্স রাখা আছে। নিউ ইয়র্ক পুলিশ আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, জরুরি সেবা কর্মীরা কারফিউয়ের আওতার বাইরে থাকবে।

শহরের উইলিয়ামসবার্গ এলাকায় ধারণকৃত আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ধরছে। এদের মধ্যে অন্তত একজন বিক্ষোভকারীকে মাটিতে ফেলে তাকে গ্রেফতারের দৃশ্য রয়েছে।

আরেক ভিডিওতে দেখা গেছে, এক ব্যক্তি মাটিতে পড়ে আছেন। তার মাথা থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে এবং তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ কী বলছে?

বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্ক রাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমো দৃশ্যত পুলিশের পক্ষ সমর্থন করেছেন। তিনি বলেছেন, পুলিশ ‘বিনা কারণে’ কোনও নাগরিককে মারধর করেনি। তবে তারা যদি তা করে থাকে সেটা অন্যায়।

শহরের মেয়র বিল ডে ব্লাসিও বলেছেন, কর্তৃপক্ষ যা করছে তার সবই করা হচ্ছে বিক্ষোভ দমনের জন্য। তবে তাদের ওই বক্তব্যের পর রাতের বেলা যা ঘটেছে গভর্নর এবং মেয়র দুজনেই তার নিন্দা করেছেন।

এক টুইট বার্তায় বাফেলোর ঘটনাকে পুরোপুরি অযৌক্তিক এবং খুবই ন্যাক্কারজনক বলে বর্ণনা করেছেন কুমো। মেয়র ডে ব্লাসিও বলেছেন, জরুরি সরবরাহ কর্মীকে গ্রেফতারের ভিডিও দেখার পর তিনি শহরের পুলিশ বিভাগের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ করেছেন। সূত্র: বিবিসি।

/এমপি/

লাইভ

টপ