যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় মিয়ানমারের শীর্ষ জেনারেল মিং অং হ্লাইং

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০১:৪০, জুলাই ০৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৪১, জুলাই ০৭, ২০২০

মিয়ানমারের শীর্ষ জেনারেল  মিং অং হ্লাইং-সহ গত কয়েক বছরে সবচেয়ে ঘৃণ্য মানবাধিকার হরণের ঘটনায় জড়িত ৪৯ ব্যক্তি ও সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। এই নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন ব্যক্তি ও সংস্থার সম্পদ জব্দ হবে এবং তারা ব্রিটেনে প্রবেশের সুযোগ হারাবে। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আরও রয়েছে ২০০৯ সালে রাশিয়ান আইনজীবী সের্গেই ম্যাগনেটস্কি হত্যায় দায়ী ব্যক্তি ও ২০১৮ সালে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যায় সম্পৃক্ত সৌদি কর্মকর্তাসহ উত্তর কোরিয়ার দুটি সংস্থা। জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পৃষ্ঠপোষকতার বাইরে প্রথমবারের মতো এ ধরণের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।মিয়ানমারের দুই সেনা কর্মকর্তাও রয়েছে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার আওতায়

বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার হরণের ঘটনা ঠেকাতে যুক্তরাজ্য ‘দ্য গ্লোবাল হিউম্যান রাইটস স্যাংকশন রেগুলেশন ২০২০’ নামের একটি আইন প্রণয়ন করেছে। এর অধীনে মানবাধিকার হরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সংস্থার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে দেশটি। শাস্তির ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের চেয়ে বেশি বিবেচনা করা হবে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় দায়ী ব্যক্তি ও সংস্থাকে। এই আইনে সোমবার প্রথমবারের মতো ৪৯ ব্যক্তি ও সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডোমিনিক রাব বলেছেন, এই পদক্ষেপ ‘স্পষ্ট বার্তা’।

নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর (তাতমাদো) প্রধান সেনাপতি সিনিয়র জেনারেল মিং অং হ্লাইং-এর সঙ্গে রয়েছে উপ-সেনাপতি ভাইস সিনিয়র জেনারেল সোয়ে উইং। প্রথমবারের মতো ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ব্যক্তি ও সংস্থার মধ্যে রয়েছে ২৫ জন রাশিয়ার নাগরিক। এসব রুশ নাগরিক আইনজীবী সের্গেই ম্যাগনটস্কির সঙ্গে অসদাচরণ ও তাকে হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে মনে করে যুক্তরাজ্য। রাশিয়ার একদল ট্যাক্স ও পুলিশ কর্মকর্তার দুর্নীতি উন্মোচনের পর ম্যাগনটস্কি পুলিশি হেফাজতে প্রাণ হারান।

এছাড়া নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে তুরস্কের ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন ২০ সৌদি কর্মকর্তা। এছাড়া রোহিঙ্গাসহ অন্য নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কাঠামোবদ্ধ এবং নৃশংস সহিংসতায় দায়ী মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দুই ঊর্ধ্বতন জেনারেলও রয়েছে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার আওতায়। রয়েছে বাধ্যতামূলক শ্রম, নির্যাতন এবং খুনের সঙ্গে জড়িত উত্তর কোরিয়ার দুটি সংস্থা।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডোমিনিক রাব বলেন, যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তারা রাজনৈতিক গুপ্তহত্যাসহ বিচার বর্হিভূত হত্যা, নির্যাতন, অবমাননাকর আচরণ, বাধ্যতামূলক শ্রম এবং দাসবৃত্তির জন্য দায়ী ছিল। পার্লামেন্টে তিনি বলেন, আজ এই সরকার এবং এই হাউস ব্রিটিশ জনগণের পক্ষ থেকে জোরালো বার্তা পাঠাচ্ছে যে, যাদের হাতে রক্ত আছে, যারা নিপীড়ক দস্যু এবং স্বৈরাচারের সমর্থক তারা এই দেশে মুক্তভাবে উল্লাস করতে পারবে না।’

/জেজে/বিএ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ