সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনায় সুদানে ওমর আল বশিরের বিচার শুরু

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২:৫৩, জুলাই ২১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৫৩, জুলাই ২১, ২০২০

তিন দশকেরও বেশি সময় আগে যে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সুদানের সাবেক শাসক ওমর আল বশির ক্ষমতা দখল করেছিলেন, সেই অভ্যুত্থানের ঘটনায় এবারে তার বিচার শুরু হয়েছে। তার বিরুদ্ধে খার্তুমের আদালতে সেনা অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এই মামলায় তার সঙ্গে অভিযুক্ত হয়েছেন দশ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ছয় বেসামরিক নাগরিক। এদের মধ্যে দুইজন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ছাড়াও রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও গভর্নর। মঙ্গলবার বিচার শুরুর সময়ে এরা সকলেই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এই মামলায় দোষী প্রমাণিত হলে প্রাণদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন ৭৬ বছর বয়সী বশির। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল ওমর আল বশিরের পতন ঘটে

৩০ বছরের বেশি সুদানের ক্ষমতায় থাকার পর রুটি ও জ্বালানির দাম বাড়ানো কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভের জেরে গত বছরের ১১ এপ্রিল ওমর আল বশিরের সরকারের পতন ঘটে। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশের নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনাবাহিনী। পরে একটি বেসামরিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করা হয়। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গত বছরের ডিসেম্বরে অর্থ পাচার ও দুর্নীতির মামলায় দোষী প্রমাণিত হন বশির। তারপর থেকেই কারাগারে রয়েছেন তিনি। আর এবারে সেনা অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের মামলার মুখোমুখি হলেন তিনি।

মঙ্গলবারে আদালতে হাজির থাকা ওমর আল বশিরসহ অপর ১৬ জনের বিরুদ্ধে ১৯৮৯ সালের ৩০ জুন সেনা অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ওইদিন  গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করে সুদানের সেনাবাহিনী পার্লামেন্টসহ অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাতিল করে দেয়। বিমানবন্দর বন্ধ করে দিয়ে রেডিওতে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দেয়।

আফ্রিকার অনেক দেশেই সহিংসতার মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখলের নজির রয়েছে। তবে পতনের পরও এসব দখলকারীদের বিচারের মুখোমুখি হওয়ার নজির খুব বেশি নেই। আর এবারে সেই সামান্য কয়েক জনের তালিকায় যুক্ত হলেন ওমর আল বশির। যদিও অনেকেই মনে করেন ১৯৮৯ সালের সেই ষড়যন্ত্রের সত্যিকার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন ইসলামিক ভাবাদর্শের নেতা হাসান আল তুরাবি। ২০১৬ সালে তার মৃত্যু হয়।

সেনা অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের মামলায় ওমর আল বশিরকে আদালতের মুখোমুখি করতে ভূমিকা রাখা আইনজীবীদের মধ্যে অন্যতম হলেন মোয়াজ হাদরা। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেন, ‘যারা সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে নষ্টের চেষ্টা করবে তাদের জন্য এই বিচার হবে সতর্ক বার্তা। এই বিচার হবে সুদানের গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ। আশা করছি এর মধ্য দিয়ে সুদানে জোর করে ক্ষমতা দখল যুগের অবসান ঘটবে।’

উল্লেখ্য, ১৯৫৬ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর সুদানে অন্তত তিনবার সেনা অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটেছে।

/জেজে/

লাইভ

টপ