বৈরুত বিস্ফোরণের ভয়াবহতার নেপথ্যে ‘অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট’?

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০:৪০, আগস্ট ০৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৫, আগস্ট ০৫, ২০২০

লেবানন বলছে, কোনও নাশকতা নয়, বৈরুতের বিস্ফোরণ একটি দুর্ঘটনা। গুদামে মজুত থাকা রাসায়নিক পদার্থ ‘অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট’ থেকেই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে দাবি করেছে তারা। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব বলেছেন, বৈরুত বন্দরের একটি গুদামে বিপুল পরিমাণ অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুত ছিল। সেখান থেকেই দুর্ঘটনা হয়েছে।

মঙ্গলবারের জোড়া বিস্ফোরণে এ পর্যন্ত অন্তত ৭৮ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে সে দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছে প্রায় ৪ হাজার মানুষ। লেবাননের সাধারণ নিরাপত্তা বিষয়ক পরিচালক মেজর জেনারেল আব্বাস ইব্রাহিম লেবাননের সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের সম্ভব্য উৎস ছিল বন্দরের একটি ডিপো, যেখানে বিস্ফোরক পদার্থের মজুত ছিল। 

পরে প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব জানান, গত ছয় বছর ধরে ওই গুদামে দুই হাজার ৭৫০  ম্যাট্রিক টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুত করে রাখা হয়েছিল। ২০১৪ সালে একটি মালবাহী জাহাজে করে ওই রাসায়নিক এসেছিল। কাগজপত্রে ঝামেলা থাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষ জাহাজের সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করে। তারপরই ওই রাসায়নিক গুদামে মজুত রাখা হয়।

কথা ছিল, পরে নিলামের মাধ্যমে ওই রাসায়নিক বাজারে ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে গত ছয় বছরে সে কাজ করা যায়নি। শুধু তাই নয়, এই পরিমাণ রাসায়নিক যেখানে মজুত ছিল, সেখানে যথেষ্ট নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল না।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট জমিতে সারের কাজে লাগে। খনিতে কাজে লাগে। আবার বোমা তৈরিতেও ব্যবহার করা হয়। সহজেই এর থেকে বিস্ফোরণ হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, যাঁদের গাফিলতিতে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে, তাদের সবাইকে কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে। তবে আপাতত আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই সরকারের প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য।

/বিএ/

লাইভ

টপ