প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করলেন সৌদি বাদশাহ

বিদেশ ডেস্ক
০১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৫৪আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৬:২৮

সৌদি বাদশাহ সালমান দেশটির ঊর্ধ্বতন বেশ কয়েকজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করেছেন। তাদের মধ্যে রাজপরিবারের দুই সদস্যও রয়েছেন। এমবিএস নামে পরিচিত বর্তমান বাদশাহর ছেলে মোহাম্মদ বিন সালমানের ক্ষমতা গ্রহণের বাধাগুলো দূর করতেই শীর্ষস্থানীয় এসব কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এমবিএস নামে পরিচিত সৌদি আরবের ডি ফ্যাক্টো শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান

রাজকীয় আদেশে ইয়েমেনে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর কমান্ডারের পদ থেকে প্রিন্স ফাহাদ বিন তুর্কিকে অব্যাহতি দিয়েছেন বাদশাহ সালমান।

প্রিন্স ফাহাদের ছেলে আবদুলাজিজ বিন ফাহাদকেও ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই দুই জনসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে 'সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের' অভিযোগের তদন্ত করা হবে বলে ওই রাজকীয় আদেশে বলা হয়েছে।

সরকারের ভেতর কথিত দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি অভিযান পরিচালনা করছেন বাদশাহর ছেলে যুবরাজ এমবিএস। তাকে সৌদি আরবের অঘোষিত শাসক বলে মনে করা হয়। তবে সমালোচকরা বলছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণকে সংহত করাই তার কথিত এসব অভিযানের লক্ষ্য।

এর আগে এই বছরের শুরুর দিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল যে বাদশাহর ছোট ভাই প্রিন্স আহমেদ বিন আবদুলাজিজ ও সাবেক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফসহ রাজপরিবারের তিন জন জ্যেষ্ঠ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটেছিল ২০১৭ সালে। ওই সময়ে যখন রাজপরিবারের অনেক সদস্য, মন্ত্রী এবং শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীদের রিয়াদের রিটজ-কার্লটন হোটেলে আটকে রাখা হয়। পরে অধিকাংশই বাদশাহ ও তার ছেলের আনুগত্যের শর্তে বিপুল অংকের অর্থের বিনিময়ে ছাড়া পান। নিজেদের মুক্তির বিনিময়ে সে সময় সরকারি তহবিলে ১০৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হয়েছিল তাদের।

২০১৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর ৩৫ বছরের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান রক্ষণশীল দেশ সৌদি আরবে বেশ কিছু অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সংস্কার আনার ঘোষণা দেন। তার ওই ঘোষণা পশ্চিমা দুনিয়ায় বেশ সমাদৃত হয়।

এর পাশাপাশি বেশ কিছু স্ক্যান্ডালেরও মুখোমুখি হতে হয় তাকে। যার মধ্যে রয়েছে ২০১৮ সালে ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগির হত্যাকাণ্ড এবং কানাডায় সাবেক একজন সৌদি গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে হত্যার কথিত অভিযোগ।

ইয়েমেনে অব্যাহত যুদ্ধের জন্যও তার বিরুদ্ধে সমালোচনা রয়েছে। যেখানে অপেক্ষাকৃত অজনপ্রিয় একটি পক্ষকে সমর্থন দিচ্ছে রিয়াদ। এমবিএস-এর মেয়াদেই ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরু করে সৌদি আরব। সূত্র: বিবিসি।

/এমপি/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
২৭ জুনের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি
২৭ জুনের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি
বেইজিং পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
বেইজিং পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ
মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ
বৃষ্টি হলেও ভ্যাপসা গরম কমছে না কেন
বৃষ্টি হলেও ভ্যাপসা গরম কমছে না কেন
সর্বাধিক পঠিত
স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা পোশাক কারখানা, একসঙ্গে বেকার ১৮০০ শ্রমিক
স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা পোশাক কারখানা, একসঙ্গে বেকার ১৮০০ শ্রমিক
মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা
মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা
বিশ্বকাপকে বিক্রি করে দিয়েছেন ফিফা সভাপতি: ফিলিপ লাম 
বিশ্বকাপকে বিক্রি করে দিয়েছেন ফিফা সভাপতি: ফিলিপ লাম 
১৩ বছর পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরলেন ওয়াহিদুজ্জামান
১৩ বছর পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরলেন ওয়াহিদুজ্জামান
মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বিষয়ে সতর্ক করলো বিআরটিএ
মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বিষয়ে সতর্ক করলো বিআরটিএ