অনুমোদন পাওয়ার আগেই গণহারে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করছে চীন?

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১:৩৩, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:২০, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছ থেকে অনুমোদন পাওয়ার আগেই দেশের হাজার হাজার মানুষের ওপর করোনা ভ্যাকসিনের ডোজ প্রয়োগ করেছে চীন। এমনকি এই কথা যেন প্রকাশ্যে না আসে তার জন্য যাদের শরীরে এই ডোজ দেওয়া হয়েছে তাদের সঙ্গে একটি গোপন চুক্তিও করেছে তারা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কর্মী, প্রতিষেধক প্রস্তুতকারী সংস্থার কর্মী, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরাসহ হাজার হাজার মানুষের শরীরে অনুমোদন ছাড়াই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। তবে এ ধরনের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে চীন। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষের শরীরে ওই ভ্যাকসিন পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। এদিকে, বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, অনুমোদন ছাড়া এ ভ্যাকসিনের ব্যবহার মানুষের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত জটিলতা তৈরি করতে।

এই মুহূর্তে ১১টি সম্ভাব্য প্রতিষেধক নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে চীনে। তার মধ্যে চারটির পরীক্ষা এরইমধ্যে তৃতীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। মূলত চীনের বাইরেই সেগুলোর ট্রায়াল চলছে। যাদের ওপর এই ট্রায়াল চলছে, তাদের শরীরে কী কী পরিবর্তন ঘটছে সেদিকে নজর রাখা হয়েছে। তবে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, স্বেচ্ছাসেবীদের বাইরে সাধারণ মানুষদের শরীরেও এ টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে। এই গোটা প্রক্রিয়াটাই গোপনে চলছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ধাপে ধাপে ট্রায়াল পেরোতে গেলে অনেক সময় লেগে যেতে পারে, তার জন্য মানুষের জীবন বাজি রাখছে চীন। টিকা প্রয়োগের আগে প্রথমে সাধারণ মানুষকে দিয়ে ‘ননডিসক্লোজার’ চুক্তি স্বাক্ষর করিয়ে নিচ্ছে তারা, যাতে বিষয়টি নিয়ে কেউ সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলতে না পারেন।

এখন পর্যন্ত ঠিক কতজনের ওপর টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে তা যদিও এখন পর্যন্ত জানা যায়নি, তবে একেবারে শেষ পর্যায়ে করোনার প্রতিষেধক নিয়ে গবেষণা করছে চীনের যে সরকারি সংস্থা, সেই সিনোফার্ম জানিয়েছে, কয়েক হাজার মানুষের শরীরে ইতোমধ্যে ওই টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে। অন্য একটি সংস্থা সিনোভ্যাক জানিয়েছে, শুধু বেইজিংয়েই ১০ হাজারের বেশি মানুষের ওপর তাদের তৈরি টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে। ওই সংস্থার সব কর্মী ও তাদের পরিবারের লোকজন মিলিয়েই কমপক্ষে তিন হাজার জনের ওপর টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে হংকংয়ের ফিনিক্স টেলিভিশনের তরফে জানানো হয়, তাদের এক সাংবাদিকের শরীরে সিনোফার্মের তৈরি প্রতিষেধক প্রয়োগ করা হয়েছে। সাংহাইয়ে সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের এক প্রাক্তন ইমিউনোলজিস্ট তাও লিনার মনে করেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিষেধক নেওয়ার ইচ্ছা আদৌ রয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করে দেখতেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। তাদের আগে থেকেই ভাইরাসটি গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

ট্রায়ালে উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই ব্যাপক হারে সম্ভাব্য টিকা প্রয়োগের এই সিদ্ধান্তে হতভম্ব আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। গবেষণার প্রয়োজনে ট্রায়ালের প্রতিটি পর্বে নির্দিষ্ট সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবকদের ওপর টিকা প্রয়োগের রীতি থাকলেও, কোনও দেশ সাধারণ মানুষের ওপর ব্যাপক হারে টিকার প্রয়োগ করছে, তেমন ঘটনা এই প্রথম বলে দাবি তাদের। কার্যকারিতা প্রমাণিত না হওয়ায় সম্ভাব্য টিকার প্রয়োগে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে এবং তা থেকে সংক্রমণ আরও ছড়িয়েও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিপদ রয়েছে জেনেও স্বেচ্ছায় সাধারণ মানুষ টিকা নিতে এগিয়ে আসছেন, নাকি চীন সরকার তাদের বাধ্য করছে সে নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তারা।

এদিকে চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের কর্মকর্তা ঝেং ঝোংওয়েই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। শুক্রবার তিনি দাবি করেন, এই ভ্যাকসিনের ব্যাপারে জুন মাসেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তাদের জানিয়েছিল বেইজিং। তাদের কাছ থেকে অনুমোদন পাওয়ার পরেই জুলাই মাস থেকে ভ্যাকসিনের ডোজ দেওয়া শুরু হয়। এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সদস্য এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষদেরই এই ভ্যাকসিনের ডোজ দেওয়া হয়েছে। পুরো বিষয়টি সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেছেন ওই কর্মকর্তা।

/এফইউ/এমওএফ/

লাইভ

টপ