সিরিয়ার আলেপ্পোতে ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থার কারণে তুর্কী সীমান্তের দিকে ধেয়ে যাওয়া সিরীয় শরণার্থীদের গ্রহণ করতে তুরস্কের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে সীমান্তবর্তী প্রদেশের এক গভর্নর বলেছেন, নতুন এই শরণার্থীদের জন্য সীমান্ত খুলে দেবে না তুরস্ক।
অ্যামস্টারডামে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের এক সভা শেষে ইইউ পররাষ্ট্রনীতির প্রধান ফেডেরিকা মগেরিনি বলছেন, তুরস্ক শরণার্থীদের আশ্রয় না দিলে সেটা হবে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। ফেডেরিকা মগেরিনি বলেন, ‘এটা একটা নৈতিক দায়িত্ব, আর এটা কোন আইনি দায়িত্ব না হয়ে থাকলেও প্রয়োজন অনুযায়ী শরণার্থীদের আন্তর্জাতিকভাবে সুরক্ষা দেয়া উচিত। আর সিরিয়া থেকে আসা সিরিয়ানদের যে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা প্রয়োজন তা তো প্রশ্নাতীত বিষয়। তুরস্ক যেন শরণার্থীদের ঠিকভাবে থাকতে দিতে পারে সে লক্ষ্যেই আমরা তাদের সমর্থন দিচ্ছি।’
গত কয়েকদিন সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে যে তীব্র লড়াই শুরু হয় তারপর থেকেই সেখান থেকে লোকজন পালাতে শুরু করে। শরণার্থীদের বোঝা সামলাতে তুরস্ক এখনই হিমসিম খাচ্ছে, এর মধ্যে নতুন করে আসা শরণার্থীদের স্রোত তুরস্কের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। গত ৪৮ ঘন্টায় ৩৫ হাজার সিরিয়ান শরণার্থী সেখানে জড়ো হয়েছে। এরপর ইইউ নেতাদের বৈঠক শেষে তুরস্ককে সীমান্তের ফটক খুলে দেয়ার আহ্বান জানানো হয়।
তবে তুরস্কের এক সীমান্তবর্তী প্রদেশ কিলিসের গভর্ণর সুলেমান তপসিজ বলেন, এই শরণার্থীদের জন্য তুরস্ক তাদের সীমান্ত খুলবে না। তিনি বলেন, ‘আমাদের সীমান্তবর্তী ৮টি ক্যাম্প রয়েছে। সেখানে নতুন শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার ক্ষমতাও আমাদের আছে। তবে আমরা মনে করছি না যে এই মুহূর্তে তাদের দেশে প্রবেশ করতে দেওয়ার প্রয়োজন আছে। ওই শরণার্থীদের জন্য আশ্রয় এবং পর্যাপ্ত খাদ্য দেওয়া হচ্ছে। তাই তাদেরকে তুরষ্কের ভূখন্ডে প্রবেশ করতে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।’
উল্লেখ্য, সিরিয়ার আলেপ্পোতে ধারাবাহিক রুশ বিমান হামলা আরও জোরালো হওয়ার কারণে তুরস্কের সীমান্তের দিকে ধেয়ে যাচ্ছেন লাখো শরণার্থী; এই সিরীয় শরণার্থীদের সংখ্যা ৭০ হাজারের কাছাকাছি বলে উল্লেখ করেছেন তুর্কি প্রধানমন্ত্রী আহমেত দাভুতোগলু। বৃহস্পতিবার লন্ডনে অনুষ্ঠিত ‘সিরিয়া এইড কনফারেন্সে’-এ শরণার্থীদের নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন আহমেত দাভুতোগলু। তিনি বলেছেন, ‘আমি লন্ডনে থাকলেও আমার মন পড়ে আছে দেশের সীমান্তে। আলেপ্পোতে রুশ বিমান হামলার কারণে কিলিস সীমান্তে ১০ হাজার শরণার্থী অপেক্ষা করছে। ৬০ থেকে ৭০ ভাগ শরণার্থী আলেপ্পোর উত্তরাঞ্চলে অপেক্ষা করছে তুরস্কে যাবার জন্য। নতুন এই শরণার্থীদের কোথায় জায়গা দেওয়া হবে? আলেপ্পোতে বাসকারী তিন লাখ মানুষ এখন তুরস্কে যাওয়ার পথ খুঁজছে।’
সিরিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর দেশটির বিশ লাখেরও বেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে তুরস্ক কিন্তু আরও শরণার্থীকে তারা এখন আশ্রয় দেবে কিনা সেটা এখন পরিস্কার নয়। নতুন করে যে শরণার্থীদের ঢল নেমেছে, তাদের আশ্রয় দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দিক থেকেও চাপের মুখে আছে তুরস্ক। তবে দেশে আশ্রয় না দিতে চাইলেও সীমান্তে তাদের খাদ্য ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তুরস্ক। সূত্র: গার্ডিয়ান
/বিএ/







