প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে নতুন অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে চীন। এই পরিকল্পনায় ব্যাপক পরিমাণ শ্রমিক ছাঁটাই এবং সামরিক ব্যয় কমানোরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান বলছে, নতুন এই পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির এই দেশের অর্থনৈতিক গতি এখন মন্থর।
বেইজিংয়ে বার্ষিক ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং দেশটির আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এটি দেশটির ১৩তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা। এতে ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত চীনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, চীন প্রথমবারের মতো আগামী পাঁচ বছরে গড় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৬.৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। দেশে-বিদেশে মন্থর চাহিদা, অতিরিক্ত শিল্প ক্ষমতা এবং সংশয়পূর্ণ বিনিয়োগের ফলে ২০১৫ সালে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬.৯ শতাংশে নেমে আসে, যা গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। অর্থনীতিবিদরা ধারণা করছেন, চলতি বছরে এই প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশ হবে। তবে সরকার ২০১৬ সালের জন্য প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ শতাংশ থেকে নামিয়ে ৬.৫ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে মৌলিক অর্থনৈতিক অবকাঠামো, আবর্তিত শেয়ার বাজার এবং বিশ্ব বাজারে নমনীয় নীতি গ্রহণ করা হবে। কংগ্রেসে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, ২০১৫ সালটি ছিল একটি কষ্টকর বছর। তা শুধু চীনের জন্যই নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্য। কিন্তু চীনা কমিউনিস্ট পার্টির লক্ষ্য এবং কর্মসূচীর কারণে আমরা তা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি।’
লি কেকিয়াং তার পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সামরিক ব্যয় কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন। চলতি বছরে চীন সামরিক ব্যয় ৭.৬ শতাংশ বাড়াচ্ছে। গত ছয় বছরের মধ্যে এই বৃদ্ধির হার সর্বনিম্ন। প্রধানমন্ত্রী আধুনিকায়ন পরিকলপনার ওপর জোর দিয়েছেন, যা সামরিক খরচ কমাতে সহায়ক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার বিশেষ প্রতিনিধি আদ্রিয়ান ব্রাউন জানান, প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ বক্তব্যে অনেক কথাই উঠে এসেছে। সরকারের অনেক ‘অপর্যাপ্ততা’র কথাও সেখানে ওঠে আসে। প্রধানমন্ত্রী কিছু সংস্কার কাজের দিকে নির্দেশ করে সেগুলো বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। সেই সাথে দুর্নীতি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
আলজাজিরার খবরে জানা গেছে, চীন আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ লাখ শ্রমিক ছাঁটাই করতে যাচ্ছে। এটি গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা। তবে শহরাঞ্চলে প্রায় ১ কোটি নতুন কর্মসসংস্থান সৃষ্টির কথাও বলা হয়। প্রধানমন্ত্রী লি আশা করছেন, চলতি বছরের মধ্যে শহরাঞ্চলে বেকারত্বের হার ৪.৫ শতাংশে নেমে আসবে।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর দেশ জুড়ে প্রায় ৩ হাজার প্রতিনিধি ১২ দিনব্যাপী ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসে সমাবেত হন। এটি বেইজিংয়ের গ্রেট হলে অনুষ্ঠিত হয়। ৩১টি প্রদেশ, পৌর এলাকা এবং স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল সহ হংকং, ম্যাকাও এবং সেনাবাহিনী থেকে প্রতিনিধিরা এখানে উপস্থিত হন। সূত্র: আলজাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান।
/এসএ/বিএ/








