আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দুই ঘোরতর প্রতিপক্ষ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েফ এরদোয়ান আর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পোরোশেঙ্কো! রাশিয়া ইউক্রেনের ক্রিমিয়া দখলে নেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে চরমে পৌঁছায়। অন্যদিকে তুরস্কের সিরিয়া সীমান্তে একটি রুশ বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় আঙ্কারার সঙ্গে মস্কোর সম্পর্কে ব্যাপক অবনতি ঘটে। এমন বাস্তবতায় এই দুই নেতার বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্টের কাছে জানতে চান ১২ বছরের এক কন্যাশিশু। টেলিভিশনের এক অনুষ্ঠানে দর্শকদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন পুতিন। সেখানে শিশুটি ফোনে জানতে চান, এরদোয়ান এবং পোরোশেঙ্কো- এ দুইজনের মধ্যে ডুবন্ত অবস্থায় আগে কাকে উদ্ধার করবেন রুশ প্রেসিডেন্ট?
বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে প্রেসিডেন্টের এ প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানে অংশ নেন রুশ নাগরিকরা। এতে অনেক প্রশ্নের মধ্যে এক ছোট্ট শিশুর এ প্রশ্নটি সবার নজর কাড়ে। প্রশ্নের উত্তরে পুতিন বলেন, ‘কেউ যদি ডুবে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সম্ভবত তাকে বাঁচানো অসম্ভব। যদিও আমরা আমাদের যে কোনও অংশীদারের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়াতে প্রস্তুত, যদি তারা সেটা চায়।’
আগামী সেপ্টেম্বরের পার্লামেন্ট নির্বাচনে পুতিনের পক্ষে এক ধরনের সমর্থন তৈরির উদ্দেশ্যে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এই প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অর্থনেতিক সংকট সত্ত্বেও রাশিয়ার রাজনীতিতে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন ভ্লাদিমির পুতিন। তার দল ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি দীর্ঘদিন দেশটি শাসন করছে।
রশিয়া ইউক্রেনের ক্রিমিয়া দখল করে নেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে ব্যাপক অবনতি ঘটে। ২০১৪ সালের মার্চে পুতিন এবং ক্রিমিয়ার নেতারা ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রাশিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়ার বিল সই করেন। রাশিয়ার জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর মধ্য দিয়ে এ সময় পুতিন এবং ক্রিমিয়ার নেতারা এ উপদ্বীপকে রাশিয়ান ফেডারেশনের অংশ করে নেয়ার চুক্তি সই করেন। তবে ইউক্রেনের অন্য কোনো অংশ দখলের পরিকল্পনা নেই বলে জানান রুশ প্রেসিডেন্ট। চুক্তি সইয়ের পর এক ঘোষণায় বলা হয়, জনগণের হৃদয়মনে ক্রিমিয়া সবসময়ই রাশিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়েই আছে। তারা আবারো বাড়ির আঙিনায় ফিরে এলো। ওই ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাপের মুখে পড়ে মস্কো।
এছাড়া ২০১৫ সালের ২৪ নভেম্বর তুরস্কের সিরিয়া সীমান্তে একটি রুশ বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় আঙ্কারার সঙ্গে মস্কোর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তুমুল বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
আরও পড়ুন: কামিজ পরে মন্দিরে প্রবেশ করায় আক্রমণ
রুশ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই পুতিন খেদোক্তি করেন, রাশিয়ার পিঠে ছুরি মেরেছে তুরস্ক। এর যথার্থ প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে। এর জবাবে এরদোয়ান বলেন, সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন হলে তুরস্ক নিশ্চয়ই বসে থাকবে না।
আরও পড়ুন: বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের মানবাধিকার রক্ষার বড় সমস্যা: যুক্তরাষ্ট্র
তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দাভুতোগলু বলেন, আমাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করায় একটি জঙ্গিবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। এটিকে কোনো রাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান মনে করেনি তুর্কি বাহিনী। এখন এ নিয়ে কারও সঙ্গে সম্পর্কও নষ্ট করতে চাই না আমরা।
আরও পড়ুন: বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে অচল কাশ্মির, বন্ধ ইন্টারনেট
বিপরীতে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্জেই লাভরভ বলেন, যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনা তুরস্কের উদ্দেশ্যকে দারুণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। আমরা বিশ্বাস করি, তুরস্কের নেতৃত্ব তাদের সীমা অতিক্রম করে ফেলেছেন। সূত্র: ইন্ডিপেনডেন্ট।
/এমপি/বিএ/








