বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইবার ডাকাতির পর জনপ্রিয় সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাস্পারস্কি ল্যাব জানিয়েছে, তারা আর্থিক খাতে আরও সাইবার হামলার আশঙ্কা করছে। ক্যাস্পারস্কি ল্যাবের প্রতিষ্ঠাতা ইউজিন ক্যাস্পারস্কি এক টিভি সাক্ষাৎকারে এই আশঙ্কার কথা জানান।
ইউজিন বলেন, ‘আমরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যে নতুন নতুন অপরাধের দেখা পাই, অপরাধীদের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগের কারণে সামনে তা আরও বাড়বে।’ তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে দক্ষ পেশাদার সাইবার অপরাধীরা স্টক এক্সচেঞ্জের মতো নতুন ধরনের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করতে চাইছে।’
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইবার ডাকাতি তদন্তে ফায়ার আই
ওই প্রযুক্তি সবখানে ছড়িয়ে যাবে বলেও আশঙ্কা করছেন ক্যাস্পারস্কি। এ ধরনের হামলাকে সাইবার সন্ত্রাস বলে উল্লেখ করে ইউজিন ক্যাস্পারস্কি জানান, ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভাঙতে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, তা এখন কেনাও সম্ভব। এখন এটাও সম্ভব যে নিজের ফায়দা না হলেও কেউ একজন অন্য কারও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে পঙ্গু করে দিতে পেশাদার ভাড়াটে সাইবার সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করতে পারেন।
আরও পড়ুন: ৩ বার সতর্কতামূলক বার্তা পেয়েও আমলে নেয়নি ফিলিপাইনের ব্যাংক
ক্যাস্পারস্কি ল্যাবের দেওয়া তথ্যমতে, হ্যাকিং এবং স্প্যামিং-এর কারণে বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর প্রায় শত বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি হচ্ছে। আরও অগ্রসর হামলা চালানো হচ্ছে ম্যালওয়ারের মাধ্যমে, যা এটিএম মেশিন হ্যাক করতে ব্যবহৃত হয়েছে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ, এশিয়ার বিভিন্ন দেশে।
আরও পড়ুন: ‘আমরা টাকা ফেরত পেলাম কোথায়, টাকাতো এখনও ফিলিপাইনের ভল্টে’
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাকড করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকাররা ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরি করে। এর মধ্যে ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চুরি করে ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার ব্রাঞ্চের চারটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে। শ্রীলঙ্কায় পাঠানো হয় আরও ২০ মিলিয়ন ডলার। এখনও ওই অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে। সূত্র: ব্লুমবার্গ।
/এসএ/বিএ/







