প্রতি বছর কয়েক মিলিয়ন ছোট ছোট ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে পৃথিবী। কিন্তু সে সব অনেক মৃদু বলে টের পাওয়া যায় না। কিন্তু সম্প্রতি জাপান ও ইকুয়েডরের ভূমিকম্প পুরো বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ভূমিকম্পগুলো অনেক বড় বিপর্যয় ডেকে এনেছে। এই ভূমিকম্পগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষভাবে বিবেচনা করার মত বেশ কিছু বিষয় রয়েছে। তেমন ৫টি বিষয় এই প্রতিবেদনে তুলে আনা হয়েছে।
১ ইকুয়েডর ও জাপানের ভূমিকম্পের মধ্যে কি কোন আন্তঃসম্পর্ক আছে?
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা-ইউএসজিএস এর জিওফিজিসিস্ট পল কারুসো বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্তে আসা খুবই কঠিন। ইকুয়েডরের ভূমিকম্পের পর একদিন কেটেছে, জাপানের ভূমিকম্পের পর দুইদিন কেটেছে। এর মধ্যে কোনও সত্যিকারের গবেষণা সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘সমুদ্রের এপার-ওপারেও ভূমিকম্প যুক্ত থাকতে পারে- এমনটা সাধারণভাবে মনে করা হয় না। তবে এ বিষয় নিয়ে গবেষণা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে বড় বড় ভূমিকম্পগুলো হয়তো অনেক দূরেও ছোট ভূমিকম্প সৃষ্টি করতে পারে।’
২ রিং অব ফায়ার
দ্য ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটির সংজ্ঞা অনুসারে, প্রশান্ত মহাসাগরের ধার ঘেঁষে একটি অশ্বখুরাকৃতি অঞ্চলে প্রচুর আগ্নেয়গিরি রয়েছে, একই সঙ্গে এই অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ।
কয়েকদিনের ব্যবধানে অনেক দূরে দূরে বেশ কয়েকটি ভূমিকম্প আপাতদৃষ্টিতে সম্পর্কহীন মনে হলেও, দ্য ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটির পরিসংখ্যান মতে বিশ্বের শতকরা ৯০ ভাগ ভূমিকম্পই এই অশ্বখুরাকৃতি অঞ্চলটিতেই ঘটে, যার নাম দেওয়া হয়েছে রিং অব ফায়ার।
৩ তীব্রতার দিক থেকে ইকুয়েডর ও জাপানের ভূমিকম্প কিভাবে তুলনীয়?
শনিবার সকালে জাপানের ভূমিকম্পের চেয়ে ইকুয়েডরে ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ১৬ গুণ বেশি। ইউএসজিএস ওয়েবসাইটের ‘ট্রাই ইট ইয়োরসেলফ’ ক্যালকুলেটর থেকে এই হিসাব পাওয়া গেছে। ইকুয়েডরের ভূমিকম্পটি ছিল ৭ দশমিক ৮ মাত্রার। জাপানের ভূমিকম্পটি ছিল ৭ দশমিক শুন্য মাত্রার। এই দুইটি সংখ্যা এই ক্যালকুলেটরে প্রবেশ করালে পাওয়া যায় ১৫ দশমিক ৮৪৮।
আরও পড়ুনঃ জাপানে আরও ভূমিকম্পের আশঙ্কা, ঘরহারা আড়াই লাখ মানুষ
আরও পড়ুনঃ ইকুয়েডরে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭২
৪ এটিই কি ইকুয়েডরের তীব্রতম ভূমিকম্প?
না, ১৯০৬ খৃষ্টাব্দে ৩১ জানুয়ারি ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ায় ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এই ভূমিকম্পের ফলে সুনামিও হয়। এই বিপর্যয়ে ৫০০ থেকে ১৫০০ মানুষ প্রাণ হারায়। এ ছাড়াও ১৯৪২ সালের ১৪ মে প্রায় ৪৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়। এইএসজিএসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ১৯৮৭ সালের মার্চ মাসে ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পে ১০০০ প্রাণহানির পর এটিই ইকুয়েডরের তীব্রতম ভূমিকম্প।
৫ ভূমিকম্প কত ঘন ঘন ঘটে?
ইউএসজিএসের মতে ৭ দশমিক শুন্য থেকে ৭ দশমিক ৯ মাত্রা পর্যন্ত ভূমিকম্প বছরে গড়ে ১৫ বার ঘটে থাকে। এর চেয়েও বড়, ৮ মাত্রার ভূমিকম্প ঘটে বছরে গড়ে একবার। সূত্রঃ সিএনএন
/ইউআর/বিএ/








