শনিবারের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর থেকে ইকুয়েডরে প্রতিদিন একটু একটু করে কমে যাচ্ছে ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে থাকা মানুষদের জীবিত উদ্ধারের আশা। ভূমিকম্পের ৪ দিন পর এসে এখন মৃতদেহ উদ্ধারকে প্রাধান্য দিয়েই চলছে অভিযান। আর যারা ভূমিকম্পের ভয়াবহতা থেকে বেঁচে গিয়ে বিপন্ন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন, তাদের জন্য ত্রাণ সরবরাহের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। এদিকে শনিবারের ভূমিকম্পের পর নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। আহতের সংখ্যা ৪ হাজারেরও বেশি। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ২৩১ জন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাতাসে লাশের পঁচা গন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছে। মঙ্গলবার মানতা শহরের কাছের একটি ধ্বংসস্তূপ থেকে ৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও আর কাউকে জীবিত খুঁজে পাওয়া যাবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে কাউকে জীবিত উদ্ধারের আশা ফুরিয়ে গেলেও জোরোশোরে উদ্ধার অভিযান চলছে। আর ভূমিকম্পের ভয়াবহতা থেকে যারা বেঁচে গেছেন তাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ত্রাণ সরবরাহের গতি বাড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: নিউ ইয়র্ক প্রাইমারিতে ট্রাম্প ও হিলারি জয়ী
ভূমিকম্পের কারণে হাজার হাজার মানুষ ঘরহারা হয়েছেন। বিশুদ্ধ পানির অভাবে তাদের মধ্যে নানা রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আন্তর্জাতিক খাদ্য তহবিল ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান অক্সফাম থেকে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। আর জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর পক্ষ থেকে মশারি ও তাঁবু তৈরির সরঞ্জামাদি পাঠানো হচ্ছে।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পুনর্গঠনের জন্য কোটি কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থের প্রয়োজন পড়বে বলে জানিয়েছেন ইকুয়েডেরের প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরিয়া।
আরও পড়ুন: সুদর্শন বিদেশিদের সঙ্গে প্রেম না করতে চীনে অভিনব প্রচারণা
উল্লেখ্য, শনিবার ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১৯ কিলোমিটার। আর গভীরতা কম থাকায় তার তীব্রতাও ছিল প্রচণ্ড। ভূমিকম্পের তাণ্ডবে মুইজন শহরটি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। ভূমিকম্পে রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, পানীয় জলের ব্যবস্থা বিধ্বস্ত হয়। আর তাই বেঁচে যাওয়া মানুষদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তারা খোলা আকাশের নিচে থাকতে এবং নোংরা জল খেতে বাধ্য হচ্ছেন।
আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনি কিশোর হত্যার দায়ে এক ইসরায়েলি দোষী সাব্যস্ত
রাস্তা বন্ধ হয়ে পড়ায় ত্রাণ সহায়তা এবং দ্রুত উদ্ধার কাজ চালানোও কষ্টকর হয়ে পড়ে।
ইকুয়েডরের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিকার্ডো পাতিনো জানিয়েছেন, গত ৬০ বছরে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। তার মতে, ভূমিকম্পে যে ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে কয়েক বছর লেগে যাবে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৭ সালের মার্চে ইকুয়েডরে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্পে ১ হাজার মানুষ নিহত হওয়ার পর শনিবারের ভূমিকম্পটিই সবচেয়ে ভয়াবহ। এর আগে, ১৯৪৯ সালে এক ভূমিকম্পে ৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন। সূত্র: বিবিসি, সিএনএন।
/এসএ/এফইউ/বিএ/








