অস্ট্রেলিয়ায় বিষাক্ত মাশরুম খাইয়ে তিনজনকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত এরিন প্যাটারসনের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (8 সেপ্টেম্বর) অস্ট্রেলিয়ার এক বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। ৩৩ বছরের আগে প্যাটারসনের প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ নেই। এটি দেশটির ইতিহাসে কোনও নারীকে দেওয়া অন্যতম দীর্ঘতম কারাদণ্ড। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
সকালে মেলবোর্নে প্যাটারসনের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করা হয়। সে সময় সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ক্রিস্টোফার বিল বলেন, প্যাটারসন তাঁর ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারকে ভয়াবহ ‘মানসিক আঘাত’ দিয়েছেন।
বিচারক বলেন, এরিন প্যাটারসন তার শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের প্রতি কোনও দয়া দেখাননি।
৫০ বছর বয়সী প্যাটারসনকে গত জুলাই মাসে তিনটি হত্যাকাণ্ডের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
তিনি ২০২৩ সালে তার স্বামীর মা-বাবা ও খালা-খালুকে নিজ বাড়িতে দুপুরের খাবারের সময় বিফ ওয়েলিংটনের মধ্যে বিষাক্ত মাশরুম মিশিয়ে খাইয়েছিলেন। ওই ঘটনায় তার শাশুড়ি গেইল প্যাটারসন, শ্বশুর ডোনাল্ড প্যাটারসন এবং খালা শাশুড়ি হিদার উইলকিনসন মারা যান।
প্যাটারসনকে বিচারক আজীবন কারাদণ্ড দেন। তবে বলেন, ৩৩ বছর পর তিনি প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তখন প্যাটারসনের বয়স হবে ৮৩ বছর।
প্যাটারসন পুরো বিচার প্রক্রিয়াজুড়ে নিজের নির্দোষিতা দাবি করেছেন এবং বলেছেন বিষপ্রয়োগ ছিল দুর্ঘটনাজনিত। দোষী সাব্যস্ত এবং সাজা ঘোষণা করে দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার জন্য প্যাটারসনের হাতে এখন ২৮ দিন সময় আছে।তবে তিনি আপিল করবেন কি না, তা এখনও জানাননি।
বিচারপতি ক্রিস্টোফার বিল বলেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যাপক পরিকল্পনা এবং প্যাটারসনের অনুশোচনার অভাবের কারণে তার সাজা দীর্ঘ হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ‘আপনার অপরাধের বিধ্বংসী প্রভাব শুধু প্রত্যক্ষ ভুক্তভোগীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আপনার অপরাধ বহু মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’
বিশ্বজুড়ে আলোচিত এই মামলাটি ‘মাশরুম হত্যাকাণ্ড’ নামে পরিচিত।
প্যাটারসন দামি গরুর মাংস কিনে তাতে মাশরুমের পেস্ট মিশিয়ে পেস্ট্রিতে মোড়ানো খাবার তৈরি করেন, যা বিফ ওয়েলিংটন নামে পরিচিত। সবাই খাওয়ার আগে ও পরে প্রার্থনা করেন। পরে হিদার খাবারটি ‘সুস্বাদু ও দারুণ’ হয়েছে বলে প্রশংসাও করেন।
সেই খাবার খাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই ডন, গেইল ও হিদার মারা যান।








